উজানের বৃষ্টিতে আবার ফুলছে নদী, বিপৎসীমার ওপরে কুশিয়ারার দুই পয়েন্ট
কয়েকদিনের বিরতির পর আবারও উজানের পাহাড়ে নেমেছে ভারী বৃষ্টি। সেই পানির ঢল সীমান্ত পেরিয়ে নামতে শুরু করেছে সিলেটের নদ-নদীতে। শনিবার সকালে কুশিয়ারা নদীর দুটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী তিন দিন সুরমা-কুশিয়ারার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের শনিবার সকাল ৯টার বুলেটিন অনুযায়ী, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন পর্যন্ত এই ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
পানি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে ভারতের মেঘালয়ে সাম্প্রতিক অতিভারি বৃষ্টিপাতকে দায়ী করেছে বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র।
তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় মেঘালয়ের মাউসিনরামে ৩৪৯ মিলিমিটার, আরকেএম সোহরায় ২৮০ মিলিমিটার, চেরাপুঞ্জিতে ২৫২ মিলিমিটার এবং মাওফ্লাংয়ে ৯৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার বিলোনিয়ায় ১০০ মিলিমিটার এবং অরুণাচল প্রদেশের পাসিঘাটে ৮৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
মেঘালয়ের এসব পাহাড়ি এলাকা থেকেই পিয়াইন, সারি-গোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও কুশিয়ারা নদীর উজানের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে। ফলে উজানের বৃষ্টির সরাসরি প্রভাব পড়ছে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীতে।
বুলেটিনে দেশের উত্তরাঞ্চলের নদ-নদী নিয়েও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল থাকলেও আগামী তিন দিনে তা বাড়তে পারে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাংশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে গেছে এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
ভারতের মণিপুরের আঙ্গামি নাগা পাহাড় থেকে উৎপন্ন বরাক নদী সিলেট সীমান্তে এসে সুরমা ও কুশিয়ারা নামে দুটি ধারায় বিভক্ত হয়। পরে কিশোরগঞ্জের ভৈরববাজারের কাছে এই দুই নদী মিলিত হয়ে মেঘনা নদী গঠন করে, যা শেষ পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে গিয়ে মিশেছে।



