ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপির আসন্ন কমিটি ঘিরে গুঞ্জন, পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত রাজনৈতিক অঙ্গন।মুখে মধু,অন্তরে বিষ নিয়ে চায়ের টবিলে গুপ্ত !
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ওয়েস্ট মিডল্যান্ড শাখার আসন্ন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রকাশ্যে নেতারা একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখলেও, অভ্যন্তরীণভাবে বিভিন্ন বিষয়ে মতপার্থক্য ও ক্ষোভ বিরাজ করছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নাম প্রকাশ না করে বা ছদ্মনামে বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য ও প্রচারণা চালানো হচ্ছে, যা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
সম্প্রতি ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপি সংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রকাশের পর বিলুপ্ত কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালিক ওই প্রতিবেদনের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, ব্যক্তিগত কারণে ২০২২ সালে তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেন, যাতে দলীয় কার্যক্রমে কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটে। তবে তিনি কখনো দল ত্যাগ করেননি এবং সাধারণ কর্মী হিসেবে দলের কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে গেছেন।
আব্দুল খালিক দাবি করেন, ২০২৩ সালে লন্ডনের হাইড পার্কে অনুষ্ঠিত সরকারবিরোধী সমাবেশে তিনি কোচযোগে নেতাকর্মীদের নিয়ে অংশ নেন। এছাড়া ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিতে বার্মিংহাম থেকে নেতাকর্মীদের নিয়ে লন্ডনে যান এবং সেখানে স্থানীয় ব্রিটিশ এমপি আইউ খান এর সঙ্গেও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, “আমি সবসময় দলের জন্য নিবেদিত ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও দলের স্বার্থে কাজ করে যাব।”
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপির নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্মান রয়েছে। তবে বিভিন্ন বিষয়ে মতবিরোধও বিদ্যমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রকাশ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলেও আড়ালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরের বিরুদ্ধে প্রচারণা চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে আগামী সোমবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপির ১৬টি জোনের প্রতিনিধিদের গুরুত্বপূর্ণ সভা। এই সভাকে ঘিরে সংগঠনের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে। অনেকের ধারণা, দীর্ঘদিনের জমে থাকা অসন্তোষ ও মতবিরোধ ওই সভায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।
দলীয় নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, অতীতে সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত না থাকা কিছু ব্যক্তি সম্ভাব্য কমিটিতে স্থান পাওয়ার আশায় বিভিন্ন নেতার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালিয়েছেন। তবে তৃণমূলের প্রত্যাশা, সব ধরনের বিভেদ ও বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে ত্যাগী, পরীক্ষিত এবং দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের নিয়ে একটি শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য কমিটি গঠিত হবে।
ওয়েস্ট মিডল্যান্ড বিএনপির নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা শুরু হয়েছে, আগামী প্রতিনিধিসভার পর তার দিকনির্দেশনা আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



