চীনের পর তিস্তা মহাপরিকল্পনায় আগ্রহ নেদারল্যান্ডসের
চীনের পর এবার বাংলাদেশের তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এর বাস্তবায়নে বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়ার বিষয়ে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাগত জানিয়েছেন বলে এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি। মঙ্গলবার (ঢাকা) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী সিওয়ার্ড সিওয়ার্ডসমার নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানান।
বৈঠকে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডস—উভয় দেশই বদ্বীপ অঞ্চল হওয়ায় অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একসঙ্গে কাজ করার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভূমি পুনরুদ্ধারে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) বরাত দিয়ে জানায়, সিওয়ার্ডসমা পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, উন্নয়ন এবং জলবায়ু-সহনশীল নদী ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় বাড়ানো এবং সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
এই অঞ্চলে চীনের উপস্থিতি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও, তিস্তা প্রকল্পটিকে আগে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতার একটি ক্ষেত্র হিসেবে আলোচনা করা হয়েছিল।
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীনের সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ভারত। বিশেষ করে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের (চিকেনস নেক) ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে প্রকল্পটি ভারতের নজরে রয়েছে। এই অঞ্চলে বাইরের কোনো শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি, বিশেষত চীনের উপস্থিতি, ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ বাড়াতে পারে।
পাশাপাশি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সংযুক্তকারী এই করিডরের কৌশলগত ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
গত জুনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরের পর দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে সহযোগিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উল্লেখ করা হয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, পানিসম্পদের পরিকল্পনা, জলপ্রবাহের পূর্বাভাস, বন্যা প্রতিরোধ ও দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস, নদী খনন এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি বিনিময়ের মতো ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরো গভীর করতে দুই পক্ষ সম্মত হয়েছে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পে (টিআরসিএমআরপি) চীন তার সামর্থ্যের মধ্যে বাংলাদেশকে সহায়তা দেবে। পাশাপাশি প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং সংশ্লিষ্ট কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে দুই দেশের বিশেষজ্ঞদের সহায়তা করবে।



