জাফলং পর্যটনকেন্দ্রের খাসজমি ৮ ব্যবসায়ীর দখলে
সকালের প্রথম আলো পড়তেই জাফলংয়ের পিয়াইন নদীর স্বচ্ছ পানিতে ভেসে ওঠে খাসিয়া পাহাড়ের ছায়া। নদীর বুকে ছড়িয়ে থাকা সাদা পাথর, দূরে ভারতের সবুজ পাহাড় আর পর্যটকদের কোলাহলে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিজেই এখানে একটি পোস্টকার্ড এঁকে রেখেছে। বছরের প্রায় প্রতিদিনই হাজারো মানুষ এই সৌন্দর্য দেখতে আসেন।
কিন্তু এই ছবির ঠিক পাশেই, বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন সরকারি খাসজমিতে সারি সারি টিনের ছাউনি, পাকা দোকান, রেস্তোরাঁ আর হোটেল দাঁড়িয়ে আছে। পর্যটকদের কাছে এগুলো হয়তো সাধারণ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। কিন্তু ভূমি প্রশাসনের তদন্ত বলছে, এগুলোর অনেকগুলোই গড়ে উঠেছে সরকারি জমি দখল করে।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসনের তদন্তে বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন সরকারি খাসজমি দখলের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। তদন্তে দেখা গেছে, প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ একর সরকারি জমিতে অন্তত ৫০টি দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব স্থাপনার সঙ্গে স্থানীয় আটজন ব্যবসায়ীর সম্পৃক্ততার তথ্য উঠে এসেছে।
তদন্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদনে অভিযুক্তদের নাম উল্লেখ করে সরকারি জমি উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তদন্তে অভিযুক্ত আটজন হলেন গোয়াইনঘাটের নলজুরী এলাকার আবদুল কুদ্দুছ ও ফারুক আহমদ, লাখেরপাড় এলাকার আলম বখত, বাবুল বখত, রায়হান ও উমর আলী, মোহাম্মদপুরের আনোয়ার হোসেন (জুবের আহমদ) এবং জৈন্তাপুরের কানিকপাড়া এলাকার নুরুজ্জামান।
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা ভূমি অফিসের নির্দেশে ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় তদন্তটি পরিচালনা করে। গত ২৪ জুন ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আবদুল মোনায়েম তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) কাছে জমা দেন। পরে সেটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারীর মাধ্যমে গত ১৩ জুলাই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে পাঠানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চৈলাখেল তৃতীয় খণ্ড মৌজার সরকারি খাসজমির একটি অংশ বিজিবি অধিগ্রহণ করলেও অবশিষ্ট প্রায় ৪ দশমিক ৮৬ একর জমি বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। প্রতিবেদনে সরকারি জমির ওপর গড়ে ওঠা ৫০টি দোকানপাটের অবস্থান, দখলদারদের পরিচয় এবং জমি উদ্ধারের সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।



