পানি সংকটে সিলেট নগর, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম
সিলেট নগরে প্রতিদিন পানির চাহিদা প্রায় ১২ কোটি লিটার। তবে সিটি করপোরেশন সরবরাহ করতে পারছে মাত্র সাড়ে ৪ কোটি লিটার। ফলে নগরের বড় একটি অংশ এখনও নির্ভর করছে ব্যক্তিগত নলকূপ ও গভীর নলকূপের ওপর। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়লে সংকট আরও তীব্র হয়ে ওঠে।
সিটি করপোরেশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১০ লাখ মানুষের এই নগরে বর্তমানে ৪২টি ওয়ার্ড রয়েছে। এর মধ্যে পুরোনো ২৪টি ওয়ার্ডে পানি সরবরাহ করা হলেও ২০২১ সালে যুক্ত হওয়া ১৫টি নতুন ওয়ার্ড এবং পুরোনো ২৫, ২৬ ও ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে এখনো পূর্ণাঙ্গ সরবরাহব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
পুরোনো ওয়ার্ডগুলোতে দৈনিক পানির চাহিদা প্রায় ৫ কোটি লিটার হলেও সরবরাহ করা হচ্ছে সাড়ে ৪ কোটি লিটার। অন্যদিকে নতুন ওয়ার্ড ও আংশিক সেবাপ্রাপ্ত এলাকাগুলোতে চাহিদা রয়েছে আরও ৭ কোটি লিটার, যেখানে এখনো সংযোগব্যবস্থাই চালু করা যায়নি।
বর্ধিত এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের আওতায় এলেও তারা এখনো মৌলিক নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। মেজরটিলার বাসিন্দা হাসানুজ্জামান বলেন, ‘পানি সরবরাহের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবার নিজস্ব নলকূপ স্থাপন করে প্রয়োজন মেটাতে বাধ্য হচ্ছে।’
বর্তমানে কুশিঘাট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট এবং ৪৫টি উৎপাদক নলকূপের মাধ্যমে প্রতিদিন সাড়ে ৪ কোটি লিটার পানি উৎপাদন করছে সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি অনুমোদিত ৮ হাজারের বেশি গভীর নলকূপ থেকেও ব্যক্তিগতভাবে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। তবে এসব ব্যক্তিগত উৎস থেকে কত পানি তোলা হচ্ছে, তার কোনো নির্দিষ্ট হিসাব নেই।
নগরের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা জানান, গরমের সময়ে বিদ্যুৎ বিভ্রাট বাড়লে পানির সংকটও বেড়ে যায়। নির্ধারিত সময়েও অনেক এলাকায় পানি পৌঁছায় না। কোথাও দিনে একবার, কোথাও দুইবার সরবরাহ করা হলেও সময়সূচি নিয়মিত মানা হয় না।
কলাপাড়া ও শেখঘাট এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, তাদের এলাকায় সংকট সবচেয়ে বেশি। অনেক সময় একবারের বেশি পানি পাওয়া যায় না, ফলে দৈনন্দিন কাজকর্মে ভোগান্তি পোহাতে হয়।
সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি শাখার সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক তাপাদার বলেন, নগরে বড় ধরনের পানিসংকট নেই। তবে চাহিদা মেটাতে নতুন একটি পানি শোধনাগার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি চালু হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।
এদিকে শহরতলির চেঙ্গেরখাল নদীকে কেন্দ্র করে নতুন একটি পানি শোধনাগার প্রকল্পের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন। পাশাপাশি কুশিয়ারা নদীকে উৎস হিসেবে ব্যবহার করে আরও একটি শোধনাগার নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘আমি যোগদানের পর থেকেই পানির সংকট দূর করতে নতুন আরেকটি ট্রিটমেন্ট প্ল্যাট স্থাপনে উদ্যোগ নেই। সব প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। এ প্রকল্পের কাজ দ্রুতই শুরু হবে।’
নতুন ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হলে পানির ঘাটতি অনেকটাই কমে আসবে। ভবিষ্যতে নগরের প্রতিটি ওয়ার্ডে চাহিদা অনুযায়ী পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সিসিক।



