বিপদসীমার ওপরে সুরমা–কুশিয়ারার পানি, সিলেটে বন্যার শঙ্কা
টানা বর্ষণ ও ভারতের মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রভাবে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি আবারও বাড়ছে। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টার তথ্য অনুযায়ী, সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর তিনটি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে সুরমা নদীর আরও তিনটি স্টেশন সতর্কসীমায় পৌঁছেছে, ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) জানিয়েছে, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বর্তমানে এটি দেশের মধ্যে বিপদসীমা অতিক্রম করা স্টেশনগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। একই নদীর মারকুলি পয়েন্টে পানি রয়েছে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপরে। অন্যদিকে সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ১৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ ছাড়া সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট ও সুনামগঞ্জ স্টেশনে পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব পয়েন্টেও অল্প সময়ের মধ্যে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে এফএফডব্লিউসি।
কেন্দ্রটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের চারটি পানি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে তিনটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে তিনটি স্টেশনই সিলেট বিভাগের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর। অপরটি নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র।
গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ সময়ে সুনামগঞ্জের লরেরগড়ে ১৫৭ মিলিমিটার, ছাতকে ১২৫ মিলিমিটার, মহেশখোলায় ৯৫ মিলিমিটার এবং সুনামগঞ্জ সদরে ৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের উজানেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। মাওকিরওয়াতে ১১৫ মিলিমিটার, মাউসিনরামে ১১১ মিলিমিটার, আর. কে. এম. সোহরায় ১০৮ মিলিমিটার, শেল্লায় ৮০ মিলিমিটার, উইলিয়ামনগরে ৮০ মিলিমিটার এবং চেরাপুঞ্জিতে ৭৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এসব এলাকা থেকেই সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর উজানের পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী দিনগুলোতে সুরমা ও কুশিয়ারার পানি আরও বাড়তে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার সকাল ৯টার পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, দেশের ১২৭টি পানি সমতল পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে পানি বেড়েছে, ৪৪টিতে কমেছে এবং দুটি স্টেশনে পানি অপরিবর্তিত রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।




