ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ বাংলাদেশির ২৪ জনই সিলেটের
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে দিকভ্রান্ত হয়ে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশির মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৪ জনই সিলেট বিভাগের চার জেলার বাসিন্দা। উদ্ধার হওয়া ২৭ জন বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং মিশরের স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে আছেন।
অন্যদিকে, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও দুই বাংলাদেশি। তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জীবিত উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি সাগরে মারা গেছেন। পরে তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম।
২৪ জনই সিলেট বিভাগের
পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে সুনামগঞ্জের ১৮ জন, হবিগঞ্জের ৩, সিলেট জেলার ৩ এবং বিভাগের বাইরে মাদারীপুর, কিশোরগঞ্জ ও ভৈরবের ৩ জন রয়েছেন।
সুনামগঞ্জের ১৮ জনের মধ্যে সদর উপজেলার ১২ জন, দিরাইয়ের একজন, জগন্নাথপুরের চারজন এবং ছাতকের একজন রয়েছেন।
হবিগঞ্জের বাসিন্দাদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলার মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জের সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ।
সিলেট জেলার তিনজন হলেন গোয়াইনঘাটের তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজারের রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম।
সিলেট বিভাগের বাইরে থাকা তিনজন হলেন মাদারীপুরের মো. ফারুক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সায়মন মিয়া এবং ভৈরবের মহরম আলী।
১০ দিন সাগরে ভাসার পর উদ্ধার
বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মানবপাচার চক্রের সহায়তায় গত ৩ আগস্ট লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে গ্রিসের উদ্দেশে নৌকায় যাত্রা করেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা।
ভূমধ্যসাগরে নৌকার ইঞ্জিন বিকল হয়ে গেলে সেটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসার পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। পরে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে।
চিকিৎসার পর সুস্থ হওয়া ২৭ জনকে বর্তমানে মারসা মাতরুহ পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি অস্থায়ী কারাগারে রাখা হয়েছে।
দুজনের মরদেহ উদ্ধার
দূতাবাসের কর্মকর্তা জানান, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান নামে একজন বাংলাদেশি মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরে ১৬ আগস্ট একই উপকূল থেকে আরও একজন বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
দুটি মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।
মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং সাগরে নিখোঁজ নয় বাংলাদেশির পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এ বিষয়ে মিশরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষাৎকারের সুযোগ চাওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া নৌকা থেকে দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র ও তিনটি পাসপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
জাকির হোসেন জানান, মিশরের আইন অনুযায়ী আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। প্রক্রিয়া শেষ হলে আটক ব্যক্তিদের দেশে ফেরত পাঠানো এবং শনাক্ত মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে।




