মাজারের সব ধরনের দানই হিসাবের আওতায় চান কাইয়ুম চৌধুরী
হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে শুধু দানবাক্সে জমা হওয়া নগদ অর্থ নয়, ভবিষ্যতে সব ধরনের দানের পৃথক হিসাব সংরক্ষণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, মাজারে দান করা গরু, ছাগলসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীও হিসাবের আওতায় আনা হবে। একই সঙ্গে দানবাক্সের অর্থ ভবিষ্যতেও প্রকাশ্যে গণনা করা হবে কি না, সে বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা কার্যক্রম পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনা করাই সবচেয়ে উপযুক্ত পদ্ধতি। তবে ভবিষ্যতে এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে নাকি কমিটির মাধ্যমে অর্থ গণনা করা হবে, সে বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
দান ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে তিনি বলেন, শুধু নগদ অর্থের হিসাব রাখলেই হবে না। মাজারে কতটি গরু, ছাগল বা অন্য কোনো মূল্যবান সামগ্রী দান করা হয়েছে, সেগুলোরও পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংরক্ষণ করা হবে। সব ধরনের দানকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি জানান, মাজার পরিচালনার জন্য গঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটি এখনো দান ব্যবস্থাপনার চূড়ান্ত নীতিমালা প্রণয়ন করেনি। তবে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকে দানের অর্থের ব্যবস্থাপনা, মাজারের নিয়মিত ব্যয়, উদ্বৃত্ত অর্থের ব্যবহার এবং সার্বিক পরিচালনা নিয়ে একটি নীতিমালা চূড়ান্ত করা হবে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী আরও বলেন, নীতিমালা প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত দানবাক্সের অর্থ থেকে নিয়মিত কোনো ব্যয় করা হচ্ছে না। আগে খাদেমদের মজুরি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পারিশ্রমিক, লঙ্গরখানার ব্যয়সহ বিভিন্ন খাতে এই অর্থ ব্যবহার করা হলেও আপাতত সেসব ব্যয় স্থগিত রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ পর শনিবার আবার দানবাক্সের অর্থ গণনা করা হচ্ছে। আগামী বৈঠকে শুধু অর্থ গণনার পদ্ধতি নয়, পুরো দান ব্যবস্থাপনা কীভাবে পরিচালিত হবে এবং উদ্বৃত্ত অর্থ কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যয় করা হবে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পরে সেই সিদ্ধান্ত সিলেটবাসী এবং দেশ-বিদেশে থাকা হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর ভক্তদের জানানো হবে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাজারের দানবাক্স খুলে প্রকাশ্যে অর্থ গণনা শুরু হয়। প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে এটি দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের অর্থ গণনার উদ্যোগ। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নেওয়া এ উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।



