মাজারে বর্তমান প্রক্রিয়া স্থায়ী সমাধান নয়: কয়েস লোদি
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয় বলে মন্তব্য করেছেন সিলেট উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান ও মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য রেজাউল হাসান কয়েস লোদি।
শনিবার (১১ জুলাই) প্রায় ৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো প্রকাশ্যে মাজারের দানবাক্সের টাকা গণনার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
কয়েস লোদি বলেন, বর্তমান কার্যক্রম আগের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় পরিচালিত হচ্ছে। তবে এভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে না। এটি কারও জন্যই কাম্য নয়। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দরগা, মসজিদ ও মাদ্রাসাকেন্দ্রিক সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে।
তিনি বলেন, ‘দান করা অর্থের সুষম বণ্টন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। বিষয়টি এখন গণদাবিতে পরিণত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে মানুষের প্রত্যাশার আলোকে একটি গ্রহণযোগ্য রূপরেখা তৈরি করার চেষ্টা করছি।’
তিনি জানান, ১৩ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটি ইতোমধ্যে বৈঠক করে কিছু প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে সেগুলো এখনই প্রকাশ করা হচ্ছে না। আগামী বৃহস্পতিবার আবার বৈঠক শেষে চূড়ান্ত পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।
দানবাক্সের অর্থ প্রসঙ্গে কয়েস লোদি বলেন, ‘সবার উপস্থিতিতে প্রকাশ্যে টাকা গণনা করা হচ্ছে। গণনা শেষে আগের মতোই অর্থ জেলা প্রশাসকের ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হবে। তবে এই অর্থ কীভাবে ব্যয় ও বণ্টন হবে, সেটিই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’
মাজারের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, দরগা, মসজিদ, মাদ্রাসা ও মাজারসংশ্লিষ্ট সবাই একমত যে, এখানে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো জরুরি। দর্শনার্থীদের জন্য অজুখানা, বিশ্রামাগার ও একটি সাংস্কৃতিক কর্নার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, হযরত শাহজালাল (রহ.)–এর ব্যবহৃত বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের উপযুক্ত ব্যবস্থা বর্তমানে নেই। পাশাপাশি তাঁর জীবন, সিলেট বিজয় এবং ইতিহাস নিয়ে লেখা বিভিন্ন বই ও গবেষণা একত্রে সংরক্ষণের জন্য একটি আধুনিক গ্রন্থাগার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনাও রয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাজার প্রাঙ্গণে প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা শুরু হয়। মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের কমিটির সদস্য, প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ মাদ্রাসার ২৫ থেকে ৩০ জন শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমে অংশ নেন।
এর আগে গত ২২ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হয়। সেদিন মোট ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়, যা পরে সোনালী ব্যাংকে খোলা একটি নতুন হিসাবে জমা রাখা হয়।
গত বৃহস্পতিবার সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের কমিটির বৈঠকে দ্বিতীয় দফায় দানবাক্সের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় শনিবার এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।



