মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুরের বিরুদ্ধে আগে থেকেই ছিল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগ
এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় মৃত্যুদণ্ড পাওয়া সাইফুর রহমান সিলেটের টিলাগড়কেন্দ্রিক ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ ছিলেন। ধর্ষণের ঘটনার আগেই এমসি কলেজ ও টিলাগড় এলাকায় তার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ছাত্রাবাসে অস্ত্র মজুদের অভিযোগ ছিল।
সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার আলোচিত এ মামলার রায়ে সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেন। একই রায়ে শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর চার আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
টিলাগড়ের ছাত্ররাজনীতিতে সক্রিয়
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাইফুর রহমানের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায়। তিনি এমসি কলেজের ইংরেজি বিভাগের অনিয়মিত শিক্ষার্থী ছিলেন এবং কলেজ ছাত্রাবাসের একটি কক্ষে থাকতেন।
তিনি ছাত্রলীগের টিলাগড়কেন্দ্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। স্থানীয়ভাবে তার বিরুদ্ধে কলেজ এলাকায় প্রভাব বিস্তার, গ্রুপিং, র্যাগিং এবং শিক্ষার্থীদের ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের অনেকগুলোর বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।
ধর্ষণের পর অস্ত্র উদ্ধার
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে আটকে রেখে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার পরদিন শাহপরান থানার পুলিশ ছাত্রাবাসে অভিযান চালায়।
পুলিশের দাবি, অভিযানে সাইফুর রহমানের ব্যবহৃত কক্ষ থেকে একটি পাইপগান, চারটি রামদা, একটি ছুরি ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহপরান থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) মিল্টন সরকার অস্ত্র আইনে পৃথক একটি মামলা করেন।
তৎকালীন শাহপরান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাইয়ুম চৌধুরী সে সময় গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলো জব্দ করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভারত পালানোর চেষ্টা
ধর্ষণের ঘটনার পর আত্মগোপনে চলে যান সাইফুর রহমান। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন। এজন্য নিজের দাড়ি কেটে চেহারার পরিবর্তনও করেছিলেন।
তবে ২০২০ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সুরমা নদীর খেয়াঘাট এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, খেয়াঘাটে সন্দেহজনকভাবে অবস্থান করতে দেখে তার পরিচয় জানতে চাওয়া হয়। পরে প্রচারিত ছবির সঙ্গে মিলিয়ে তাকে শনাক্ত করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই খেয়াঘাট পার হয়ে দোয়ারাবাজার সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার একাধিক পথ রয়েছে।
আলোচিত সেই মামলা
২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে বেড়াতে যাওয়া এক তরুণীকে তাঁর স্বামীকে আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন।
ঘটনার তিন দিনের মধ্যে পুলিশ ও র্যাব আটজনকে গ্রেপ্তার করে। পরে মামলার তদন্ত শেষে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনকে খালাস দেন।



