শতক ছুঁয়েছে সিলেটে হামে মৃত্যু
সিলেট বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব থামছেই না। প্রতিদিনই বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা, বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি রোগীও। এবার হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বিভাগে মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছেছে ১০০-তে। এর মধ্যে ৯৯ জনই শিশু। একজন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারিয়েছেন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ মারা যাওয়া শিশুটির বয়স ৯ মাস। সে সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার দুলারবাজার ইউনিয়নের মইনপুর গ্রামের বাসিন্দা। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৪ ঘণ্টায় তার মৃত্যু হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সিলেট বিভাগের পরিচালক ডা. মাহবুবুল আলম বলেন, সর্বশেষ এই মৃত্যুর পর বিভাগে সন্দেহজনক ও পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মৃতের সংখ্যা ১০০ জনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৯৯ জন শিশু এবং একজন নার্স রয়েছেন।
এদিকে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও ৮৫ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে সিলেট বিভাগের সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৫ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৪৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি রোগী শনাক্ত হয়েছেন সুনামগঞ্জে, ২৮৭ জন। সিলেট জেলায় আক্রান্ত ১৮০ জন, হবিগঞ্জে ৫৫ জন, যার মধ্যে দুজন রুবেলায় আক্রান্ত। মৌলভীবাজারে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ জন।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সর্বোচ্চ ১১৪ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৯৬ জন। এছাড়া সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩২ জন, রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল হাসপাতালে ১৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আটজন, নর্থ ইস্ট মেডিকেল হাসপাতালে সাতজন, লায়ন্স হাসপাতালে চারজন, মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে তিনজন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তিনজন এবং বিশ্বনাথ ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একজন করে রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। শিশুদের হাম প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচিতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।




