সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী, কেউ আদিবাসী নই : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভূখণ্ডে বসবাসকারী সব নাগরিকের মূল পরিচয় বাংলাদেশি।’ তার ভাষায়, ‘বাংলাদেশে কোনো আদিবাসী গোষ্ঠী নেই; সবাই বাংলাদেশের অধিবাসী।
সংবিধান অনুযায়ী দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা সমানভাবে সুরক্ষিত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে ক্রাউন প্লাজা হোটেলের বলরুমে চিটাগং হিল ট্র্যাক্টস রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচটিআরএফ) উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইনডিজেনাস আইডেনটিটি ইজ ই-রিলিভ্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সিএইচটিআরএফের চেয়ারম্যান মেহেদী হাসান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে বসবাসকারী সব নাগরিক সমান নাগরিক অধিকার ভোগ করেন। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’-এ দেশের রাজনৈতিক দল ও অংশীজনরা বাংলাদেশের মানুষের পরিচয় ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে নির্ধারণে সম্মত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘এই জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার দেশের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতা রক্ষার ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।’
অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক সুরক্ষার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, উপজাতি ও বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা, বিকাশ ও সংরক্ষণে রাষ্ট্র প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
মন্ত্রী বলেন, ‘পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নারী ও শিশুদের মূলধারার সঙ্গে সমতায় আনতে রাষ্ট্র বিভিন্ন বিশেষ সুবিধা ও কোটাব্যবস্থা বজায় রেখেছে এবং এসব ব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তিও রয়েছে।
পার্শ্ববর্তী বহুভাষী ও বহুজাতিক কয়েকটি রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “সেখানে বহু ভাষা ও জনগোষ্ঠী থাকা সত্ত্বেও পৃথক ‘আদিবাসী’ পরিচয়ের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির পরিবর্তে অনগ্রসর জনগোষ্ঠীকে বিশেষ সুবিধা দিয়ে মূলধারায় যুক্ত করার নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।”



