সিলেটে গরমে হাঁসফাঁস, বাড়ছে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি
দুপুর গড়ানোর আগেই যেন আগুন ছড়াতে শুরু করেছে সূর্য। সকাল থেকে রোদের ধার ছিল, কিন্তু বেলা বাড়তেই তা যেন আরও নির্মম হয়ে ওঠে। নগরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে মানুষের ভিড় কমে আসে, দোকানের সামনে ছায়া খুঁজে দাঁড়িয়ে থাকেন পথচারীরা। রিকশাচালক, নির্মাণশ্রমিক কিংবা দিনমজুরদের কপাল বেয়ে ঝরতে থাকে ঘাম। কাজ থামানোর সুযোগ নেই, কিন্তু শরীর যেন বারবার বলছে, ‘আর পারছি না।’
সিলেটে গত কয়েক দিনের তীব্র গরম শনিবার আরও অসহনীয় রূপ নিয়েছে। সকাল থেকেই রোদের তাপ ছিল চড়া। দুপুরের পর পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়াই কঠিন হয়ে পড়ে।
সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শনিবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে দুপুর ৩টা পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এর আগে বৃহস্পতিবার সিলেট অঞ্চলের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তবে শুধু থার্মোমিটারের সংখ্যা দিয়ে এই গরমের তীব্রতা বোঝানো কঠিন। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরে অনুভূত তাপমাত্রা আরও অনেক বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ফলে ৩৪ বা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রাতেও হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
গরমের সবচেয়ে বড় ধাক্কা সামলাতে হচ্ছে খেটে খাওয়া মানুষদের। জীবিকার তাগিদে প্রচণ্ড রোদেও কাজ করতে হচ্ছে তাদের। নগরের বিভিন্ন সড়কের পাশে শরবত ও ঠান্ডা পানীয়ের দোকানগুলোতে দেখা গেছে শ্রমজীবী মানুষের ভিড়। অন্যদিকে অন্যান্য দিনের তুলনায় নগরের রাস্তায় মানুষের চলাচল এবং যানবাহনের সংখ্যাও ছিল কম।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের উপসহকারী আবহাওয়াবিদ রুদ্র তালুকদার বলেন, দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরে বিকেল ৩টার দিকে তা বেড়ে ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
সিলেটের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিন বলেন, ‘অতিরিক্ত গরমে দীর্ঘ সময় রোদে থাকা, পর্যাপ্ত পানি পান না করা এবং ভারী শারীরিক পরিশ্রমের ফলে শরীরের স্বাভাবিক তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। এতে প্রথমে হিট এক্সহসশন এবং পরে হিটস্ট্রোকের মতো প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’
হিটস্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন শরীরের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়া, মাথা ঘোরা, তীব্র দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, দ্রুত হৃদস্পন্দন, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে খিঁচুনি।
সিলেটের সিভিল সার্জন বলেন, ‘কারও মধ্যে হিটস্ট্রোকের লক্ষণ দেখা দিলে তাকে দ্রুত ছায়াযুক্ত বা শীতল স্থানে নিয়ে যেতে হবে। আঁটসাঁট পোশাক ঢিলা করে শরীর ঠান্ডা রাখার ব্যবস্থা করতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব নিকটস্থ হাসপাতালে নিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সিলেটে তাপমাত্রার পাশাপাশি বাতাসের আর্দ্রতাও এখন বেশ বেশি। তাই থার্মোমিটারে যে তাপমাত্রা দেখা যাচ্ছে, বাস্তবে শরীরে তার চেয়ে অনেক বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে। আর এই কারণেই বাড়ছে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি।’
চিকিৎসকদের পরামর্শ, প্রয়োজন ছাড়া সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে না যাওয়াই ভালো। বাইরে যেতে হলে ছাতা বা টুপি ব্যবহার, হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক পরা এবং পর্যাপ্ত পানি ও ওরস্যালাইন পান করা উচিত। শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী নারী এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্কতা প্রয়োজন।



