সুনামগঞ্জের মামুন দায়িত্ব নিলেন সিলেটের নতুন ডিসি হিসেবে
দীর্ঘ জল্পনা-কল্পনা ও একের পর এক প্রশাসনিক রদবদলের পর অবশেষে সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উপসচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন। সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় তিনি জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।
আব্দুল্লাহ আল মামুনের বাড়ি সিলেট বিভাগের সুনামগঞ্জে।
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) পিংকি সাহার কাছ থেকে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাঈদা পারভীন তথ্যটি নিশ্চিত করে বলেন, ‘সোমবার সকাল ১০টায় নতুন জেলা প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।’
গত ২১ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের পর সিলেটে প্রশাসনিক নেতৃত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। পরে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসানকে সিলেটে বদলি করা হলেও তিনি দায়িত্ব নিতে পারেননি। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তাকে ফিরে যেতে হয়।
পরে গত ৯ জুলাই সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সিলেটের নতুন জেলা প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেয়। নিয়োগের চার দিন পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন।
বিদায়ী জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম দায়িত্ব পালনকালে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের কারণে আলোচনায় ছিলেন। সিলেটে পাথর উত্তোলন ও লুটপাটের ঘটনায় তিনি উদ্ধার করা সাদাপাথর পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ নেন। পাশাপাশি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরাণ (রহ.)–এর মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
গত ১২ জুন দুই মাজার পরিদর্শনের পর তিনি আয়-ব্যয়ের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার ঘোষণা দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন মাজারের পুরোনো দানবাক্স সরিয়ে নতুন দানবাক্স স্থাপন এবং দীর্ঘদিনের প্রচলিত তিনটি দানের ডেগ সিলগালা করা হয়। এসব পদক্ষেপ একদিকে অনেকের প্রশংসা কুড়ালেও, অন্যদিকে মাজারের দান ব্যবস্থাপনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে সমালোচনাও হয়।




