সুরমা-কুশিয়ারার পানি কমলেও বাড়ছে সারি-গোয়াইনের, বন্যার শঙ্কা কাটেনি
টানা দুই দিন পানি বৃদ্ধির পর শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারার পানি কিছুটা কমেছে। তবে সীমান্তবর্তী সারি-গোয়াইন নদীর পানি বেড়েছে। বৃষ্টিপাত কম থাকায় নদ-নদীর পানি নামতে শুরু করলেও নতুন করে ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢল নামলে পরিস্থিতির আবারও অবনতি হতে পারে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
শনিবার দুপুর পর্যন্ত সিলেটে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়নি। এতে নদীগুলোর পানি কিছুটা কমলেও বন্যার আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি।
পাউবোর সিলেট কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার সব নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সকাল ৬টায় কানাইঘাট পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ছিল ১২ দশমিক ৩৯ মিটার, যা দুপুর ১২টায় সামান্য কমে ১২ দশমিক ৩৮ মিটারে নেমেছে। একই সময়ে সিলেট পয়েন্টে পানির উচ্চতা ৯ দশমিক ৭৯ মিটার থেকে কমে হয়েছে ৯ দশমিক ৭৮ মিটার।
কুশিয়ারা নদীর পানিও অধিকাংশ পয়েন্টে কমেছে। অমলসিদ পয়েন্টে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৫৭ মিটার, দুপুরে তা কমে হয়েছে ১৪ দশমিক ৫৪ মিটার। শেওলা পয়েন্টে ১২ দশমিক ১৪ মিটার থেকে কমে হয়েছে ১২ দশমিক ১৩ মিটার। শেরপুর পয়েন্টে পানি অপরিবর্তিত থাকলেও ফেঞ্চুগঞ্জে ৯ দশমিক ৬৬ মিটার থেকে সামান্য বেড়ে ৯ দশমিক ৬৭ মিটারে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে সারি-গোয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। সারিঘাট পয়েন্টে পানির উচ্চতা সকাল ৬টার ১০ দশমিক ৬০ মিটার থেকে বেড়ে দুপুরে ১০ দশমিক ৬৬ মিটারে দাঁড়িয়েছে। গোয়াইনঘাট পয়েন্টেও ৯ দশমিক ৭৭ মিটার থেকে বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৮২ মিটার। তবে সীমান্তবর্তী পিয়াইন ও লোভাছড়া নদীর পানি কিছুটা কমেছে।
পাউবোর সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢল কম থাকায় নদ-নদীর পানিও কিছুটা কমেছে। তবে উজানে ভারী বৃষ্টি বা নতুন করে ঢল নামলে পানি আবারও বাড়তে পারে।
এদিকে সুনামগঞ্জেও নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন দিন টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢলে সুরমা, কুশিয়ারা, যাদুকাটা, বৌলাই ও রক্তি নদীর পানি বাড়লেও গত ২৪ ঘণ্টায় সুরমা নদীর পানি প্রায় ২ সেন্টিমিটার কমেছে। সীমান্তবর্তী অন্যান্য নদীর পানিও কিছুটা নেমেছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী-২ এমদাদুল হক বলেন, পানি কমতে শুরু করলেও বন্যার আশঙ্কা এখনো রয়েছে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুনামগঞ্জ পৌরসভার সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় একটি নিয়ন্ত্রণ কক্ষ (কন্ট্রোল রুম) চালু করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের (ভারপ্রাপ্ত) উপপরিচালক মো. মতিউর রহমান খান বলেন, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে বন্যার ঝুঁকি থাকায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কন্ট্রোল রুমের ০১৭১৬-৩৮৮৩৮২ নম্বরে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পাওয়া যাবে।



