স্ত্রীকে হারানোর এক বছর পর এবার বাসা থেকে উদ্ধার হলো স্বামীর মরদেহ
সড়ক দুর্ঘটনায় গত বছর স্ত্রীকে হারিয়েছিলেন। তারপর থেকে শ্বশুরবাড়ির একটি কক্ষে একাই কাটছিল জীবন। মঙ্গলবার রাতেও দরজা বন্ধ করে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা মনোজ কান্তি দাস। কিন্তু অনেক ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না মেলায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার। শেষ পর্যন্ত ৯৯৯-এ ফোন। ফায়ার সার্ভিস দরজা ভাঙার পর ঘরের মেঝেতে পড়ে থাকা অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তার নিথর দেহ।
মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সিলেট নগরের বাগবাড়ি এলাকার নরসিংটিলা এলাকার একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে মনোজ কান্তি দাসের (৫৮) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মনোজ কান্তি দাস সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার নারকিলা গ্রামের মৃত মহিম চন্দ্র দাসের ছেলে। তিনি সম্প্রতি মৌলভীবাজারে কর্মরত অবস্থায় পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পদ থেকে অবসরে যান।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোজ কান্তি দাসের স্ত্রী, যিনি একটি বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন, গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। এরপর থেকে তিনি শ্বশুরবাড়ির ওই বাসার দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে একাই বসবাস করতেন। পরিবারের অন্য সদস্যরা নিচতলায় থাকতেন।
মঙ্গলবার রাতে তার কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় এবং বারবার ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষের মেঝে থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন।
সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মঈনুল জাকির বলেন, ৯৯৯-এ খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা খুলে মনোজ কান্তি দাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, নিহতের নাক দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে মরদেহের ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা করা হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।




