হবিগঞ্জে ৩৪০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি
ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে এবার সিলেটে বহু জেলা-উপজেলায় নষ্ট হয়েছে কৃষকের জমির ধান। এর মাঝে শুধু হবিগঞ্জেই ক্ষতি হয়েছে ৩৪০ কোটি টাকার ফসল।
হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার সুনারু গ্রামের কৃষক মহাদেব দাস। প্রতি বিঘা ৮ হাজার টাকা চুক্তিতে ১৯ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেন তিনি। এতে তাঁর খরচ হয়েছে আড়াই লাখ টাকা। তবে মাত্র ২ বিঘা জমির ফসল তিনি কাটতে পারলেও বাকি সব তলিয়ে যায় বানের পানিতে।
মহাদেব দাস জানান, ‘যে ২ বিঘা জমির ফসল তিনি কেটে খলায় রেখেছিলেন সেগুলোও রোদের অভাবে পচে নষ্ট হচ্ছে। এ বছর তিনি ১৯ বিঘা জমি বর্গা চাষ করেন। পুরোটাই জলে গেছে। এতে ব্যাপক লোকসানে পড়ে দেনা পরিশোধে এখন হিমশিম খাচ্ছেন তিনি।
একই অবস্থা জেলার আজমিরীগঞ্জ, বানিয়াচং, লাখাই, নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার ২১ হাজার কৃষকের। বন্যার কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত ভারী হচ্ছে ক্ষতির বোঝা। কষ্টের ফসল হারিয়ে দিশেহারা তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জেলার ৫টি হাওরের প্রায় ১৩ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে চলতি মৌসুমে। অনেক জমির ধান পানির নিচে নষ্ট হচ্ছে। কোথাও কোথাও আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
অন্যদিকে যে পরিমাণ ধান কৃষকরা সংগ্রহ করেছিলেন তাও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রোদের অভাবে পচে নষ্ট হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সব মিলিয়ে এতে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪০ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। এরইমধ্যে ২১ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে হাওরের ৬২ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে বলে কৃষি অফিস দাবি করলেও বাস্তবে তা ভিন্ন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছেন, ৩০ শতাংশ জমির ফসল কাটা অবস্থায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে তলিয়ে যায় নিম্নাঞ্চলের জমিগুলো। টানা বৃষ্টি ও উজানের পানি নেমে আসার ফলে প্রতিদিন ডুবছে জমির ফসল। প্রতিনিয়ত হাওর এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।



