অপরাধ নজরদারিতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রকল্প নিচ্ছে সিসিক
সিলেট নগরে অপরাধ দমন ও নাগরিক নিরাপত্তা জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর একটি নজরদারি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরার একটি অংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। কার্যকর থাকা ক্যামেরাগুলোর মাধ্যমেও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধী শনাক্তকরণ ও সার্বক্ষণিক নজরদারিতে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ কারণে নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন একটি প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি আরও কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি জানান, প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এর পুরো ব্যবস্থাপনা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) কাছে হস্তান্তর করা হবে।
প্রশাসক বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা অপরাধীদের অবস্থান, চলাচল ও কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণকক্ষে পৌঁছে যাবে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অপরাধ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও সহজ হবে। আমাদের লক্ষ্য সিলেটকে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তোলা। এ জন্য সিটি করপোরেশন ও পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।’
সম্প্রতি সিলেট নগরের কয়েকটি আলোচিত হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা গেলে অপরাধপ্রবণতা কমবে এবং আইনের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।
আব্দুল কাইয়ুম বলেন, ‘রামিসা হত্যা মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। আমরা আশা করছি ইমন হত্যা মামলা, শিশু ফাহিমা হত্যা মামলাসহ আলোচিত অন্যান্য মামলার বিচারও দ্রুত শেষ হবে।’ তিনি জানান, এসব মামলার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করার বিষয়ে আইন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় জনসচেতনতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তার ভাষায়, ‘১০ লাখ মানুষের একটি নগরীতে শুধু পুলিশের পক্ষে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
সিলেট মহানগর পুলিশ লাইন্সে ট্রাফিক সপ্তাহ-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময়ও তিনি এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। আগামী ২০ জুন পর্যন্ত নগরে ট্রাফিক সপ্তাহের বিভিন্ন কর্মসূচি চলবে।



