মানুষ এখন স্থিতিশীলতা, শান্তি ও কর্মসংস্থান চায়: মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, দেশের মানুষ এখন রাজনৈতিক অস্থিরতা নয়, স্থিতিশীলতা চায়। তারা শান্তি চায়, কর্মসংস্থান চায়, উন্নত চিকিৎসা ও শিক্ষার সুযোগ চায়। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
বুধবার বিকেলে মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সারা দেশে একযোগে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, “এই দেশের প্রকৃত মালিক জনগণ। জনগণ যদি সচেতন ও সতর্ক থাকে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনো শঙ্কা থাকবে না। দেশের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও অগ্রগতির দায়িত্ব শেষ পর্যন্ত জনগণের হাতেই।”
তিনি বলেন, “গত এক যুগ মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। ২০২৪ সালে জনগণ রক্ত দিয়ে সেই অধিকার পুনরুদ্ধার করেছে। এখন দেশের মানুষ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে চায়, ভালোভাবে বাঁচতে চায়।”
দেশের উন্নয়নে জনগণের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত যদি কর্মহীন থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
বাকস্বাধীনতা ফিরে এসেছে দাবি করে তিনি বলেন, “আজ যে কেউ সরকারের সমালোচনা করতে পারে, সংবাদমাধ্যমও স্বাধীনভাবে লিখতে পারে। গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় জনগণের জন্য কাজ করার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের এক সপ্তাহের মধ্যে ১২ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় অন্তত আট হাজার নারীকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি ৪০ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ, উপজেলা হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু এবং সব উপজেলা হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আজ আমরা একসঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, দুস্থদের ঘর নির্মাণের অর্থ সহায়তা, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের বৃত্তি এবং অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করেছি।”
সরকার গঠনের পর বিএনপির অবস্থান প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, “নির্বাচনের আগে আমরা একটি রাজনৈতিক দল ছিলাম। কিন্তু সরকার গঠনের পর আমরা দেশের সব মানুষের সরকার। যারা ভোট দিয়েছে, যারা দেয়নি, সবার জন্যই আমরা কাজ করতে চাই।”
বিরোধী দলগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অতীতেও দেখা গেছে, যখনই দেশ এগিয়েছে এবং অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়েছে, তখনই অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছে। এখন যারা বলছে সরকারকে সময় দেওয়া যাবে না, তারা জনগণের নয়, নিজেদের স্বার্থের কথা বলছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের শক্তির উৎস জনগণ। জনগণই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি আগামী পাঁচ বছর দেশ পরিচালনা করবে।”
অর্থ পাচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “অতীতে দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে। এখন জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা অর্থ পাচার রোধ করব। বাংলাদেশের মানুষের অর্থ বাংলাদেশেই থাকবে এবং দেশের মানুষের কল্যাণে ব্যয় হবে।”
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সংসদ সদস্য এম নাসের রহমানসহ অন্যরা। ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।



