স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা,পাউবোর ভুল তথ্যে বিভ্রান্তি, ফেঞ্চুগঞ্জে বিপদসীমার ওপরে কুশিয়ারার পানি
সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি ক্রমেই বাড়ছে। এরই মধ্যে কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) প্রকাশিত দৈনিক পানিসমতল বুলেটিনে বিপদসীমা ভুলভাবে উল্লেখ করায় বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে আগামী ৭২ ঘণ্টায় উজানে ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সিলেটের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কার কথা জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)।
শনিবার (২৭ জুন) পাউবোর সিলেট কার্যালয়ের প্রকাশিত পানিসমতল বুলেটিনে দেখা যায়, সকাল ৯টায় কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৪৬ মিটার। তবে একই বুলেটিনে ওই স্টেশনের বিপদসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটার উল্লেখ করা হয়। এতে মনে হয়, নদীর পানি এখনো বিপদসীমার অনেক নিচে রয়েছে।
কিন্তু বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান জানান, ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনের প্রকৃত বিপদসীমা ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। সে হিসেবে সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। পাউবোর বুলেটিনে বিপদসীমা ভুলভাবে উল্লেখ করায় এ বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এর প্রভাবে সিলেট অঞ্চলের প্রধান নদ-নদীর পানি আরও বাড়বে এবং জেলার নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। নদীতীরবর্তী ও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে সংস্থাটি।
এদিকে কুশিয়ারা নদীর শেওলা স্টেশনে পানির উচ্চতা দ্রুত বাড়ছে। সকাল ৬টায় সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৮২ মিটার। সকাল ৯টায় তা বেড়ে হয় ১১ দশমিক ৮৫ মিটার এবং দুপুর ১২টায় দাঁড়ায় ১১ দশমিক ৮৯ মিটারে। তবে এটি এখনো বিপদসীমা ১৩ দশমিক ০৫ মিটারের চেয়ে ১ দশমিক ১৬ মিটার নিচে রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় শেওলা এলাকায় ২২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
সুরমা নদীর কানাইঘাট স্টেশনে সকাল ৬টায় পানির উচ্চতা ছিল ১১ দশমিক ৭৬ মিটার, যা সকাল ৯টায় বেড়ে ১১ দশমিক ৮৪ মিটারে পৌঁছায়। এই স্টেশনের বিপদসীমা ১২ দশমিক ৭৫ মিটার। অন্যদিকে সুরমা নদীর সিলেট স্টেশনে একই সময়ে পানির উচ্চতা ৯ দশমিক ৪৭ মিটার থেকে বেড়ে ৯ দশমিক ৪৮ মিটারে ওঠে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অন্যদিকে কুশিয়ারা নদীর শেরপুর স্টেশনে পানি সামান্য কমে ৮ দশমিক ০০ মিটারে নেমেছে। সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট ও গোয়াইনঘাট এবং পিয়াইন নদীর জাফলং স্টেশনেও পানির উচ্চতা বেড়েছে, তবে সবগুলোই এখনো বিপদসীমার নিচে রয়েছে। লোভাছড়া ও ধলা নদীতেও পানি বৃদ্ধির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, ভারতের মেঘালয় ও আসামে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে নেমে আসা ঢলে আগামী কয়েক দিন সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে। পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে বিপদসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পাউবোর প্রকাশিত বুলেটিনে বিপদসীমা ১০ দশমিক ৪৫ মিটার উল্লেখ করা হয়েছে, যা ভুল। প্রকৃত বিপদসীমা হবে ৯ দশমিক ৪৫ মিটার। এই ভুলের কারণেই বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে।



