গরমে হাঁসফাঁস, তার ওপর বিদ্যুতের ভেলকিবাজি ,সিলেটে লোডশেডিংয়ের ‘রুটিন’ মুখস্থ গ্রাহকদের
সিলেটে তাপমাত্রা যত বাড়ছে, ততই বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। গত কয়েক দিনে জেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের কাছাকাছি পৌঁছেছে। এমন দাবদাহের মধ্যেই গত প্রায় ১০ দিন ধরে চলছে দীর্ঘ ও ঘন ঘন লোডশেডিং। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেক বাসিন্দার কাছে কখন বিদ্যুৎ যাবে আর কখন আসবে, সেটিই যেন এখন মুখস্থ রুটিন হয়ে গেছে।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগের দিন শুক্রবারও ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি, বৃহস্পতিবার ৩০ দশমিক ২ ডিগ্রি, রোববার ৩২ ডিগ্রি এবং সোমবার ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদাও বেড়েছে। তবে সরবরাহে ঘাটতির কারণে দিনের বড় একটি সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে নগরবাসীকে।
নগরের দরগামহল্লা ও স্টেডিয়াম মার্কেট এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ী মো. মুবিন আহমদ বলেন, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো দেড়টা, কখনো আবার দুপুর ২টায় আসে। কিছুক্ষণ পর বিকেল ৩টা বা সোয়া ৪টার দিকে আবার চলে যায়। এরপর বিকেল ৫টা বা সাড়ে ৫টায় আসে। সন্ধ্যার পর আবার বিদ্যুৎ থাকে না।
তিনি বলেন, “রুটিনটা এখন প্রায় মুখস্থ হয়ে গেছে। বাসায় ফিরলেই বুঝি বিদ্যুৎ থাকবে না। ছেলের সঙ্গে কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর যখন খাওয়ার প্রস্তুতি হয়, তখন একবার বিদ্যুৎ আসে। গত ৮ থেকে ১০ দিন ধরে এমনই চলছে। রাতেও বারবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করে।”
নগরের মধুশহীদ এলাকার বাসিন্দা ও সফটওয়্যার ডেভেলপার আনজুম লুবাবা বলেন, তিনি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য রিমোটে কাজ করেন। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট তাঁর পেশাগত কাজেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
তিনি বলেন, “সকাল ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা, তারপর দেড়টা থেকে আড়াইটা, বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা, আবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এত ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সময়মতো কাজ জমা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে।”
ঢাকার সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, “আমরা সম্প্রতি ঢাকা থেকে সিলেটে এসেছি। মিরপুরে বিদ্যুৎ গেলে সর্বোচ্চ ১০ মিনিটের মধ্যে চলে আসত। কিন্তু সিলেটে এসে মনে হচ্ছে, বিদ্যুৎ মাঝে মাঝে আসে।”
নগরের হাউজিং এস্টেট এলাকার বাসিন্দা তানজিল আহমদ বলেন, কয়েক দিন ধরে তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সবচেয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে শিশু ও বয়স্কদের।
তিনি বলেন, “গত ৮ থেকে ১০ দিনে লোডশেডিং অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। বড়দের কষ্ট হলেও সবচেয়ে বেশি চিন্তা হয় ছোট বাচ্চাদের নিয়ে। এই গরমে তাদের সুস্থ রাখাই কঠিন হয়ে পড়েছে।”
টানা দাবদাহ ও দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের কারণে নগরজীবনে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডও ব্যাহত হচ্ছে। বাসিন্দাদের দাবি, বিদ্যুৎ সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করা না হলে গরমের এই সময়ে জনভোগান্তি আরও বাড়বে।



