সিলেট বিমানবন্দর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট সংখ্যা বাড়ছে
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে রয়েছে কি না, তা যাচাই করতে পৃথক অডিট করবে যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট ফর ট্রান্সপোর্ট (ডিএফটি) এবং আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও)।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই মূল্যায়নে সন্তোষজনক ফল এলে যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর প্রচেষ্টা আরও এগিয়ে যাবে। এতে সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অন্য শহর এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক রুটেও সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার সম্ভাবনা জোরালো হতে পারে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের ডিএফটির প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে নিরাপত্তা মূল্যায়ন করবে। এরপর আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর পর্যন্ত আইকাওর বিশেষজ্ঞ দল দেশের বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা অডিট করবে।
এই অডিটকে সামনে রেখে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ চলছে। ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক এক্স-রে মেশিন, উন্নত স্ক্যানারসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা সরঞ্জামের ফ্যাক্টরি অ্যাকসেপ্টেন্স টেস্ট (এফএটি) সম্পন্ন হয়েছে। আগামী আগস্টে এসব সরঞ্জাম দেশে পৌঁছানোর পর ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে বেবিচক তিনটি উচ্চপর্যায়ের ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করেছে। এসব গ্রুপ নয়টি পৃথক কার্যপরিধিতে কাজ করছে। পাশাপাশি আইকাওর ৪৯৪টি প্রটোকল প্রশ্নের উত্তর ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিও সম্পন্ন করা হচ্ছে।
বেবিচকের কর্মকর্তারা বলছেন, অডিটের ইতিবাচক ফল আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি ফ্লাইট চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে সিলেট অঞ্চলের অধিকাংশ যাত্রীকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরতে ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়।
তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আইকাওর নিরাপত্তা অডিটে বাংলাদেশের স্কোর ছিল ৬৮ দশমিক ৫ শতাংশ, যেখানে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ছিল ৬৫ শতাংশ। এবার বেবিচকের লক্ষ্য ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জন করা।
অন্যদিকে সর্বশেষ ডিএফটির মূল্যায়নে বাংলাদেশ কার্গো নিরাপত্তায় শতভাগ নম্বর পায়। যাত্রী নিরাপত্তায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৩ শতাংশ এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৪ শতাংশ।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অডিট। তিনটি ওয়ার্কিং গ্রুপ মোট নয়টি স্কোপ নিয়ে কাজ করছে। আইকাওর ৪৯৪টি প্রটোকল প্রশ্নের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো দুর্বলতা আছে কি না, অতিরিক্ত কোনো ব্যবস্থা প্রয়োজন কি না, সেসব বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে এবার ৭৫ শতাংশের বেশি স্কোর অর্জনের আশা করছি।’
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ বলেন, ‘এ ধরনের মূল্যায়ন নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ। গত বছর ওসমানী বিমানবন্দরের স্কোর ছিল ৯৪ শতাংশ। এবারও নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’



