বিএনপি কি আমাদের হত্যা করে একা রাজনীতি করতে চায়: এনসিপি নেত্রী মিতু
বিএনপি ও ছাত্রদল সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পদযাত্রায় হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা মিতু।
তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, “তারেক রহমান কি জুলাইযোদ্ধাদের, জুলাইয়ের তরুণ নেতাদের হত্যা করতে চান? শেখ মুজিব যেমন জাসদ নেতাদের হত্যা করেছিলেন, তারেক রহমানও কি আমাদের হত্যা করে একা রাজনীতি করতে চান? যদি তাই চান, তাহলে আমাদের স্পষ্ট করে বলুন।”
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে গোলাপগঞ্জে এনসিপির গাড়িবহরে হামলার অভিযোগ ওঠে।
ডা. মাহমুদা মিতু বলেন, “জুলাইয়ের নেতারা হামলার শিকার হচ্ছেন। ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা করছে, কিন্তু তারেক রহমানের কোনো প্রতিক্রিয়া নেই। এভাবে দেশ চালানো সম্ভব নয়।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “আমাদের হত্যার উদ্দেশ্যেই হামলা করা হয়েছে। এটি সাংগঠনিকভাবে পরিকল্পিত হামলা। টানা দুই দিন ধরে হামলার ঘটনা ঘটলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কোনো বক্তব্য দেয়নি, কাউকে বহিষ্কারও করেনি। বরং পুলিশকে নীরব থাকতে বলা হয়েছে।”
হামলার ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “যেভাবে গাড়ির কাচ ভাঙা হয়েছে, তাতে যে কেউ ঘটনাস্থলেই মারা যেতে পারতেন। আরেকটি ইট লাগলেই প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারত।”
একই সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, “শেখ হাসিনার মতো করেই তারেক রহমান ছাত্রদলকে খুনি বাহিনীতে পরিণত করতে চান কি না, সেটি স্পষ্ট করা উচিত। যদি সেটাই উদ্দেশ্য হয়, তাহলে তিনি ঘোষণা দিন। আমরাও সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেব।”
তিনি আরও বলেন, “ছাত্রদলকে এভাবে সন্ত্রাসী বাহিনীতে পরিণত করা হবে, তা আমরা ভাবিনি। জানলে নিরাপত্তা নিয়েই চলাফেরা করতাম। আর পুলিশ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সব দেখেছে। এই পুলিশ জনগণের নয়, তারেক রহমানের পুলিশে পরিণত হয়েছে। আমাদের দমন করতেই স্বৈরাচারী পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।”
জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান সারজিস আলমসহ এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। তাদের আগমনের আগে থেকেই গোলাপগঞ্জ চৌমুহনী এলাকায় স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন।
এনসিপির দাবি, তাদের গাড়িবহর সেখানে পৌঁছালে ‘ভুয়া ভুয়া’ ও ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দেওয়া হয়। পরে অনুষ্ঠান শেষে নেতারা বের হওয়ার সময় গোলাপগঞ্জ পৌরসভা গেটসংলগ্ন নূর ম্যানশনের সামনে তাদের বহরে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে সারজিস আলমের গাড়ির কাচ ভেঙে যায়।
উল্লেখ্য, এনসিপির এসব অভিযোগের বিষয়ে বিএনপি বা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।




