বাণিজ্যমন্ত্রীর ব্যস্ততায় ১৩ দিনেও হয়নি উদ্বোধন, বাড়ল মেলার সময়
সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা শুরু হওয়ার ১৩ দিন পরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারি ব্যবসায়ীরা। প্রচার-প্রচারণার অভাবে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম থাকায় বিক্রিও হচ্ছে কম। এতে লাখ লাখ টাকা খরচ করে স্টল নেওয়া ব্যবসায়ীরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন।
তবে ব্যবসায়ীদের ক্ষতির কথা বিবেচনা করে মেলার মেয়াদ আরও ১৫ দিন বাড়ানো হয়েছে। আগামী শনিবার (১৫ আগস্ট) বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন বলে জানিয়েছেন সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠের এক পাশে গত ১ আগস্ট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা-২০২৬ শুরু হয়। ওই দিনই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা ছিল বাণিজ্যমন্ত্রীর। তবে তাঁর ব্যস্ততার কারণে উদ্বোধন ছাড়াই মেলা শুরু হয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, মেলায় অংশ নিতে অনেকেই কয়েক লাখ টাকা খরচ করে স্টল নিয়েছেন। স্টল তৈরির পাশাপাশি গাছ পরিবহন, কর্মচারী ও রক্ষণাবেক্ষণ বাবদও তাদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন না হওয়া এবং পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা না থাকায় শুরু থেকেই দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম। ফলে বিক্রিও আশানুরূপ হচ্ছে না।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারি ব্যবসায়ীরা। সিলেট নার্সারি মালিক কল্যাণ সংস্থার আয়োজনে সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রতিনিধি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। এ সময় কয়েকজন নার্সারি ব্যবসায়ীও বক্তব্য দেন।
বন্ধু নার্সারির স্বত্বাধিকারী জালাল আহমদ বলেন, ‘অনেক আশা নিয়ে কয়েক লাখ টাকা খরচ করে মেলায় স্টল নিয়েছি। কিন্তু শুরু থেকেই প্রচার-প্রচারণা কম থাকায় দর্শনার্থীর উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। ফলে আমাদের বিক্রিও কম হচ্ছে। দ্রুত মেলার উদ্বোধন করে ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
সিলেট নার্সারির মালিক মলয় লাল ধর বলেন, বৃক্ষমেলা শুধু গাছ বিক্রির জায়গা নয়, মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরিরও একটি মাধ্যম। আগের বছরগুলোতে র্যালি, আলোচনা সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচি থাকলেও এবার তেমন আয়োজন দেখা যাচ্ছে না। এতে মেলায় মানুষের আগ্রহ কমেছে।
তিনি বলেন, মেলার বাকি সময়টুকুতে প্রচার-প্রচারণা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে একদিকে মানুষের মধ্যে বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
শ্যামল উদ্যান নার্সারির নুরুল কাদের সিদ্দিকি সজল বলেন, স্টল বাবদ বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও সে তুলনায় বিক্রি হচ্ছে না। স্টল নেওয়া থেকে শুরু করে গাছ পরিবহন, কর্মচারীর বেতন ও রক্ষণাবেক্ষণে কয়েক লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। কিন্তু দর্শনার্থী কম থাকায় কাঙ্ক্ষিত বিক্রি হচ্ছে না। এতে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সিলেট বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুর রহমান বলেন, ‘মেলার উদ্বোধন হওয়ার কথা ছিল গত ১ আগস্ট। কিন্তু বাণিজ্যমন্ত্রী ব্যস্ত থাকার কারণে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন সম্ভব হয়নি। ফলে উদ্বোধন ছাড়াই মেলাটি শুরু হয়।’
তিনি বলেন, মেলায় সংশ্লিষ্টরা বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানোর পর তাঁকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। পরে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে আগামী ১৫ আগস্ট তিনি উপস্থিত থেকে মেলার উদ্বোধন করবেন বলে জানান। তাঁর সফরসূচিতে বৃক্ষমেলার উদ্বোধনও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী নিশ্চিত করেছেন।
মোহাম্মদ আবদুর রহমান আরও বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা লোকসানের কথা বলছেন। সে কারণে মেলার সময় আরও ১৫ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ফলে ১ আগস্ট শুরু হওয়া সিলেট বিভাগীয় বৃক্ষমেলা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে আরও ১৫ দিন চলবে। এখন ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা, আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর প্রচার-প্রচারণা বাড়লে মেলায় দর্শনার্থী ও বিক্রি দুটোই বাড়বে।



