সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: দায় স্বীকার করে আদালতে বাবুলের জবানবন্দি
সিলেট নগরের রায়নগরে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা হত্যার ঘটনায় দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া। চার দিনের রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
সিলেটের কোর্ট ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে জবানবন্দিতে বাবুল মিয়া কী বলেছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাতে পারেননি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে চার দিনের রিমান্ড শেষে কড়া নিরাপত্তায় বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। পুলিশ জানায়, এ সময় তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানা তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রেমের সম্পর্কের জেরে হত্যাকাণ্ড
গত ১২ আগস্ট সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসা থেকে ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পূর্বপরিচিত হওয়ায় ঘটনার দিন বাবুল ওই বাড়িতে যান। দরজায় নক করলে তাহমিনা তাঁকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে বাবুল তাহমিনার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করলে তিনি এতে আপত্তি জানান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে বাবুল তাহমিনাকে ছুরিকাঘাত করেন। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাঁর সঙ্গে বাবুলের ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।
এরপর বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে চলে যান বলে পুলিশের দাবি।
হত্যাকাণ্ডের দিন বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর রাজবাড়ী এলাকার একটি কলোনিতে অভিযান চালিয়ে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৩ আগস্ট সকালে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছোরা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আখতার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর বাবার নাম মৃত নূর মিয়া।
এজাহারে বাবুলের নাম ছিল না
হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর ১৪ আগস্ট রাতে নিহত দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। তবে ওই মামলার এজাহারে বাবুল মিয়ার নাম ছিল না।
১৬ আগস্ট সকালে বাবুলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ড শেষে বৃহস্পতিবার তাঁর ১৬৪ ধারার জবানবন্দি নেওয়া হলো।
এদিকে নিহত আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক পরিচালক ছিলেন। তিনি একসময় কয়লা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া তিনি সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের উপদেষ্টা ছিলেন।




