নীরবে বাড়ছে শিক্ষার খরচ: ৫ টাকার কলম ৭ টাকা, দ্বিগুণের পথে খাতার দাম
নিত্যপণ্যের বাজারে বাড়তি দামের চাপ এখন শুধু খাবারদাবারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় খাতা-কলম, পেনসিল, জ্যামিতি বক্সসহ শিক্ষা উপকরণের দামও বাড়ছে। বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে এসব পণ্যের দাম বাড়ায় বাড়তি খরচের চাপে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
সিলেটের পাইকারি বাজারে যে ম্যাটাডোর কলমের দাম ছিল ৫ টাকা, সেটি এখন বিক্রি হচ্ছে ৭ টাকায়। খুচরা বাজারে একই কলমের দাম উঠেছে ১০ টাকা পর্যন্ত। অন্যদিকে, আগে ১৫ টাকায় বিক্রি হওয়া কিছু খাতা এখন ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।
সিলেট নগরের বন্দরবাজার, লালদিঘীরপাড় ও কুয়ারপাড় এলাকার বিভিন্ন স্টেশনারি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মান ও ব্র্যান্ডভেদে খাতা-কলমসহ শিক্ষা উপকরণের দামে বেশ পার্থক্য রয়েছে। দোকানভেদেও একই পণ্যের দামে তারতম্য দেখা গেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাগজের দাম, পরিবহন ব্যয় ও উৎপাদন খরচের প্রভাব পড়ছে শিক্ষা উপকরণের দামে। শিক্ষাবর্ষের শুরুতে চাহিদা বাড়ার কারণে সাধারণত দাম বাড়লেও এবার বছরের মাঝামাঝি সময়েও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে।
বাড়ছে কাগজের দামও
সিলেটের পাইকারি বাজারে ৬৫ গ্রাম ওজনের অফসেট কাগজের প্রতি প্যাকেট বিক্রি হচ্ছে ৩৩০ টাকায়। ৮০ গ্রামের কাগজের দাম ৪০০ টাকা এবং ১০০ গ্রামের কাগজ ৫৪০ টাকা। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে প্রতি প্যাকেট কাগজের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
এ ছাড়া মানভেদে প্রতিটি ইরেজার ১০ থেকে ১৫ টাকা, পেনসিল ১০ থেকে ২০ টাকা, স্টেপলার পিনের বক্স ১৭০ থেকে ৪৫০ টাকা, স্টেপলার মেশিন ১৮০ থেকে ২২০ টাকা এবং জ্যামিতি বক্স ৭৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
প্রতি রিম কাগজের দাম ৩৭০ থেকে ৫৪০ টাকা। কালার পেনসিলের একটি বক্স বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়।
কুয়ারপাড় এলাকার খুচরা ব্যবসায়ী মাহমুদ খান বলেন, আগে যে ধরনের খাতা ১৫ টাকায় বিক্রি হতো, এখন তা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে।
লালদিঘীরপাড় এলাকার আল করিম প্লাজার নাজির এন্টারপ্রাইজের মালিক সাকিব আহমদ বলেন, কলম ও অফসেট কাগজের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
তাঁর ভাষ্য, ৫ টাকার ম্যাটাডোর কলম এখন ৭ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে সব পণ্যের দাম বাড়েনি, কোনো কোনো খাতার দাম আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।
চাপে অভিভাবকেরাও
শিক্ষা উপকরণের দাম বাড়ায় সবচেয়ে বেশি চাপ তৈরি হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের ওপর। একটি খাতা বা কলমের দাম কয়েক টাকা বাড়লেও শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় সব উপকরণ একসঙ্গে কিনতে গেলে মোট খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
রুহুল আমীন নামে এক অভিভাবক বলেন, একসঙ্গে অনেকগুলো খাতা, কলম, পেনসিল ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ কিনতে হয়। আলাদাভাবে কোনো একটি পণ্যের দাম খুব বেশি মনে না হলেও সব মিলিয়ে খরচ অনেক বেড়ে যায়।
বাগবাড়ি এলাকার বাসিন্দা জাকারিয়া হোসেন বলেন, ৫ টাকা দামে এখন আর দোকানে কলম পাওয়া যায় না। তাঁর অভিযোগ, নীরবে শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েই চলেছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে কাগজের দাম ও পরিবহন ব্যয় কমলে শিক্ষা উপকরণের দামও কিছুটা কমতে পারে। তবে আপাতত বাড়তি খরচের চাপ থেকেই যাচ্ছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর।




