ওসমানী হাসপাতালে দেরিতে আসেন চিকিৎসকরা, নির্ধারিত সময়ের আগেই চলে যান ৯৬%
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য বলছে, নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার পরও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হন। আবার যারা হাসপাতালে আসেন, তাদের বড় একটি অংশ নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে। কারণ দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই হাসপাতালে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসেন অসংখ্য রোগী। চিকিৎসক নির্ধারিত সময়ে না থাকলে তাদের অপেক্ষা করতে হয়, আর আগেভাগে চলে গেলে সেবা পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়।
রোগীদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় চিকিৎসকদের দেরিতে আসা ও আগেভাগে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠলেও এবার হাসপাতাল পরিচালকের একটি বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে হাসপাতালে উপস্থিতি ও প্রস্থান নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চিকিৎসকদের হাসপাতালে প্রবেশের নির্ধারিত সময় সকাল ৮টা এবং প্রস্থানের সময় দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। কিন্তু সাম্প্রতিক বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য পর্যালোচনা করে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, সকাল ৯টার পর কর্মস্থলে উপস্থিত হওয়ার হার বহির্বিভাগে ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগে ৬৫ শতাংশ। অর্থাৎ নির্ধারিত সময় সকাল ৮টার এক ঘণ্টা পরও বহির্বিভাগের প্রায় অর্ধেক এবং অন্তর্বিভাগের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
শুধু দেরিতে আসাই নয়, নির্ধারিত সময়ের আগেই হাসপাতাল ছাড়ার প্রবণতাও আরও বেশি।
বায়োমেট্রিক তথ্যে দেখা গেছে, দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ের আগেই বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।
অর্থাৎ, হাসপাতালে দেরিতে আসার পাশাপাশি নির্ধারিত কর্মঘণ্টা শেষ হওয়ার আগেই চিকিৎসকদের বড় একটি অংশ চলে যাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও উদ্বেগ জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চিকিৎসাসেবা সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালনা, দাপ্তরিক শৃঙ্খলা এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা যথাযথভাবে অনুসরণ করা জরুরি।
এ কারণে সব চিকিৎসককে সকাল ৮টায় যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক অ্যাটেনড্যান্সে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের আগে কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিষয়টি আপাতত প্রাথমিক সতর্কীকরণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি ও প্রস্থানের ক্ষেত্রে একই ধরনের ব্যত্যয় আবারও দেখা গেলে সরকারি কর্মচারী (নিয়মিত উপস্থিতি) বিধিমালা, ২০১৯ অনুযায়ী বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসকদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুসরণ করে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।




