গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটকে নির্যাতন, পা ভাঙার ও চোখে চুন দেওয়ার অভিযোগ
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে গরু চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সালিশে তাদের হাত-পা বেঁধে মারধর করা হয়। এ সময় কুড়াল দিয়ে আঘাত করে একজনের পা ভেঙে দেওয়া এবং তিনজনের চোখে চুন ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোরে দুটি গরুসহ একজনকে আটকের পর তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও দুজনকে বাড়ি থেকে ধরে আনা হয়। পরে সকালে বাংলাবাজারের কাছে পালইছড়া জান্নাতুল জান্নাত জামে মসজিদের সামনে তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে।
নির্যাতনের শিকার তিনজন হলেন দোয়ারাবাজার উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বড়ইউড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৫), একই ইউনিয়নের পূর্ব গিলাতলী গ্রামের মৃত মফিজ আলীর ছেলে নিজাম উদ্দিন (৩০) এবং ছাতক উপজেলার নোয়ারাই ইউনিয়নের জোরাখানি গ্রামের মৃত শেরগুল মিয়ার ছেলে সোনাই মিয়া (২৫)।
ঘটনার একটি ভিডিও ইতোমধ্যে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে তিনজনকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাদের শরীর অনাবৃত ছিল। নাক, মুখ ও চোখে চুন লাগানো অবস্থায় দেখা যায় তাদের। একজনের পা রক্তাক্ত। ভিডিওতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদেরও কাছাকাছি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, বুধবার রাতে দোয়ারাবাজারের ভক্তারপুর গ্রামের ইকবাল হোসেনের দুটি গরু চুরি করেন ছাতকের সোনাই মিয়া। বৃহস্পতিবার ভোরে পালইছড়া গ্রামের লোকজন দুটি গরুসহ তাকে আটক করেন।
পরে সোনাইয়ের দেওয়া তথ্যে আবু বক্কর ও নিজাম উদ্দিনকে তাদের বাড়ি থেকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে সকালে স্থানীয়রা সালিশে বসেন।
সালিশে বিএনপি নেতা মোরশেদ আলম, ইউপি সদস্য হানিফ আলী, সামাদ মিয়া, জাকির হোসেন, রতন মিয়াসহ স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
সালিশে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভাষ্য, বৈঠকের একপর্যায়ে তিনজনের হাত-পা বেঁধে নির্যাতন শুরু করা হয়। কুড়াল দিয়ে আঘাত করে আবু বক্করের ডান পা ভেঙে দেওয়া হয়। পরে তিনজনের চোখে চুন ঢেলে দেওয়া হয় বলে তারা জানান।
এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করে। গরু দুটি জব্দ করে পুলিশ। আহত তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সালিশে উপস্থিত বিএনপি নেতা মোরশেদ আলম বলেন, চোরের উৎপাতে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। গরু চুরি ছাড়াও মসজিদের মাইকের ব্যাটারি ও আইপিএস চুরির ঘটনা ঘটছে।
তিনি বলেন, “আজকে এক চোরকে গরুসহ ধরে বাকি দুজনকে আটক করা হয়। চোরদের পুলিশে দিলে জামিনে বের হয়ে যায়। তাই সালিশ বোর্ডের সিদ্ধান্ত হয়েছে, চোর ধরা পড়লে সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে। গণধোলাইয়ে মারা গেলেও সালিশ বোর্ড তা দেখবে।”
তবে স্থানীয় সালিশে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া বা কাউকে শাস্তি দেওয়ার আইনগত এখতিয়ার কারও আছে কি না, সে বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউপি সদস্য হানিফ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি এখন থানায় আছি, পরে ফোন দিন।” এরপর তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, স্থানীয়দের হাত থেকে তিনজনকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”




