জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে জামায়াতের বিক্ষোভ
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে রংপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখা।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টায় নগরীর টাউন হল মাঠ থেকে মিছিলটি বের হয়ে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ঘুরে প্রেস ক্লাব, রংপুর চত্বরে গিয়ে শেষ হয়।
মিছিলজুড়ে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে বিভিন্ন স্লোগান দেন নেতাকর্মীরা। ‘জ্বালানির দাম কমাতে হবে’, ‘সিন্ডিকেট ভাঙতে হবে’, ‘জনগণের দুর্ভোগ বন্ধ করো’সহ বিভিন্ন স্লোগানে পুরো বিক্ষোভ মিছিলের এলাকা মুখর হয়ে ওঠে। এতে মহানগর জামায়াতের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা অংশ নেন।
পরে প্রেস ক্লাব চত্বরে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এ টি এম আজম খানসহ মহানগর জামায়াতের নেতারা।
সমাবেশে মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায়। জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ব্যয় বাড়বে, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং এর প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি খাত নিয়ে কোনো ধরনের সিন্ডিকেট বা কারসাজি বরদাশত করা হবে না। জনগণের স্বার্থকে উপেক্ষা করে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি করা হলে এর বিরুদ্ধে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
মাহবুবুর রহমান বেলাল আরও বলেন, জনগণের ওপর একের পর এক চাপ সৃষ্টি করা হলে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজপথে আরও তীব্র আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে হবে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আন্দোলন আরও বিস্তৃত হতে পারে এবং প্রয়োজনে এক দফার আন্দোলনের দিকেও যেতে হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ টি এম আজম খান বলেন, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে শুধু পরিবহন খাত নয়, অর্থনীতির প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়বে। কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, পরিবহনকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাবে।
তিনি বলেন, জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সাধারণ মানুষের সক্ষমতা ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিতে হবে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জনস্বার্থে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
আজম খান আরও বলেন, জ্বালানি তেলের বাজারে কোনো অনিয়ম, মজুতদারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলার চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহত করতে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে জনমত গড়ে তোলা হবে।



