জুনে ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার
ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে দায়িত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ঢাকা ও দিল্লির ঝিমিয়ে পড়া দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন করে পুনরুজ্জীবিত করতে এবার একজন পেশাদার কূটনীতিকের বদলে অভিজ্ঞ রাজনীতিকের ওপর আস্থা রেখেছে মোদী সরকার। নতুন দায়িত্বে যোগ দিতে আগামী জুন মাসে দীনেশ ত্রিবেদী ঢাকায় আসতে পারেন বলে জানা গেছে।
ঢাকায় ভারতের বর্তমান হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা ইতোমধ্যেই তার বিদায়ি প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন। তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর সঙ্গে বিদায়ী সাক্ষাৎও করেছেন। অন্যদিকে, দীনেশ ত্রিবেদী তার নতুন কূটনৈতিক মিশনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন।
ভারতের কাছে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও গত দেড় বছরে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন ও স্থবিরতা লক্ষ্য করা গেছে। দিল্লি মনে করছে, দুই বাংলার রাজনীতি ও সংস্কৃতি সম্পর্কে গভীর জানাশোনা থাকা এবং সাবলীল বাংলা বলতে পারা দীনেশ ত্রিবেদীর মতো একজন জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক এই সম্পর্ককে পুনরায় ঠিক করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণকারী ৭৫ বছর বয়সি দীনেশ ত্রিবেদীর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার অত্যন্ত বর্ণাঢ্য। তিনি কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন।
আশির দশকে কংগ্রেসের মাধ্যমে তার রাজনীতি শুরু হলেও পরবর্তীতে তিনি জনতা দলে যোগ দেন এবং ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত রাজ্যসভার সদস্য ছিলেন। ১৯৯৮ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করলে তিনি সেখানে যোগ দেন, এবং ২০০২ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত পুনরায় রাজ্যসভার সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
দীনেশ ত্রিবেদী ২০০৯ সালে তৃণমূলের হয়ে লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর মনমোহন সিং সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দিলে তাকে সেই গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথপরিক্রমায় ২০২১ সালে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করেন। এবং ওই বছরের মার্চ মাসে ভারতীয় জনতা পার্টিতে (বিজেপি) যোগ দেন।



