সিলেটের মাঠে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরিতে অবিশ্বাস্য রেকর্ড
তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটে সিলেটে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকে ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে মিড অনে ঠেলে দিয়ে সিঙ্গেল নিয়ে ৩০৪ বলে দ্বিশতক পূর্ণ করেন তিনি। এতে বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিকেই ডাবল সেঞ্চুরিতে রূপ দিলেন হৃদয়। মুশফিকুর রহিম (তিনটি), সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের পর বাংলাদেশের চতুর্থ ক্রিকেটার হিসেবে ডাবল সেঞ্চুরি করলেন তিনি।
১০১ ওভারে বাংলাদেশের রান ৮ উইকেটে ৩৪০। ৩১৪ বলে আট ছয় ও ১৯ চারে ২০৮ রানে ব্যাট করছেন হৃদয়। ৯ বলে ২ রানে খেলছেন তাসকিন। তাদের জুটিতে লিডের স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শুরু থেকেই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২২ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে টেনে তোলার দায়িত্ব নেন হৃদয়। একের পর এক উইকেট পড়লেও এক প্রান্ত আগলে রেখে খেলেছেন অসাধারণ ইনিংস। সতীর্থদের নিয়ে গড়েছেন গুরুত্বপূর্ণ জুটি, সামলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের চাপ।
তৃতীয় দিনের সকালে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ব্যাটিং শুরু করেন হৃদয়। তবে দিনের প্রথম সেশনে মুশফিক ও লিটন দাসকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবার চাপে ফেলে দেন জোমেল ওয়ারিক্যান। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও হাসান মাহমুদও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। একের পর এক উইকেট হারালেও হৃদয়ের ব্যাটে রান আসতে থাকে।
প্রথমে ১০৯ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট ফিফটি। এরপর ১৭১ বলে পূর্ণ করেন প্রথম সেঞ্চুরি। সেখানেই থেমে থাকেননি। শামার জোসেফ, রোস্টন চেইসদের বিপক্ষে কখনো সাবধানী, কখনো আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান তিন অঙ্ক পেরিয়ে। এক ওভারে চেইসকে দুটি ছক্কাও হাঁকান তিনি।
হৃদয়ের সঙ্গে দারুণ সঙ্গ দেন তাইজুল ইসলাম। অষ্টম উইকেটে দুজন গড়েন ১১৭ রানের জুটি। টেস্টে বাংলাদেশের অষ্টম উইকেটে এটি অন্যতম সেরা জুটিগুলোর একটি। ২২ রান করে তাইজুল স্টাম্পড হলে ভাঙে সেই জুটি। এরপরও থামেননি হৃদয়। লেজের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নিতে থাকেন তিনি। একপর্যায়ে পাঁজরে বলের আঘাত পেলেও ব্যাটিং চালিয়ে যান।
দেড়শ রান পূর্ণ করার পর সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংসের রেকর্ড গড়েন হৃদয়। একই সঙ্গে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডও ছাড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত ৩০৪ বলে ডাবল সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। পরের ওভারে বিশপের বলে ছক্কা মেরেছেন হৃদয়। সেই ছক্কায় তামিমকে ছাড়িয়ে গেছেন তিনি। টেস্ট ক্রিকেটে এক ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ৮ ছক্কার মালিক এখন হৃদয়। তামিম ৭ ছক্কা মেরেছিলেন ২০১৫ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে।
এর আগে বাংলাদেশের হয়ে টেস্টে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস ছিল মুশফিকুর রহিমের ২১৯ রান।



