ইংল্যান্ড-ঘানা: টুচেলের দলের সামনে কঠিন পরীক্ষা,সম্ভাব্য ফলাফল: ইংল্যান্ড ৩-১ ঘানা
নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল
আইনবিদ, কলামিস্ট, বিশ্লেষক
বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ ‘এল’-এ আজ মুখোমুখি হচ্ছে England national football team ও Ghana national football team। ফক্সবরোর গিলেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচটি দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জয়ী দল নকআউট পর্বের টিকিট প্রায় নিশ্চিত করে ফেলবে।
প্রথম ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয়ে দারুণ সূচনা করেছে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ঘানা শেষ মুহূর্তের গোলে পানামাকে হারিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামছে। দুই দলেরই ঝুলিতে তিন পয়েন্ট থাকায় গ্রুপের শীর্ষস্থান নির্ধারণেও ম্যাচটির গুরুত্ব অনেক।
আক্রমণে ইংল্যান্ড, অপেক্ষায় ঘানার কাউন্টার
কোচ Thomas Tuchel শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের ওপর জোর দিয়েছেন। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের গতিময় আক্রমণ দর্শকদের মুগ্ধ করলেও রক্ষণে কিছু দুর্বলতাও ধরা পড়েছে। টুচেল নিজেও স্বীকার করেছেন, দলকে আরও সংগঠিত হতে হবে এবং বল হারানোর পর দ্রুত রক্ষণে ফিরতে হবে।
ঘানার শক্তি ঠিক এখানেই। কোচ কার্লোস কুইরোজের দল সাধারণত সংগঠিত রক্ষণ গড়ে তুলে দ্রুত প্রতিআক্রমণে ওঠে। বিশেষ করে Thomas Partey-এর অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগের গতিময় ফুটবলারদের ব্যবহার করে তারা যেকোনো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে পারে।
তারকাদের দিকে নজর
ইংল্যান্ডের আক্রমণের প্রধান ভরসা অধিনায়ক Harry Kane। প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি দুর্দান্ত ছন্দে আছেন। মাঝমাঠে Jude Bellingham ও Declan Rice-এর ভূমিকা হতে পারে ম্যাচের নিয়ামক। উইংয়ে Bukayo Saka-কে নিয়েও সুখবর পেয়েছে ইংল্যান্ড; চোট কাটিয়ে তিনি পুরোপুরি ফিট।
অন্যদিকে ঘানার আশা থাকবে দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতার ওপর। ইংল্যান্ডের রক্ষণ যদি প্রথম ম্যাচের মতো ভুল করে, তাহলে ঘানা সেই সুযোগ নিতে দ্বিধা করবে না।
পরিসংখ্যান যা বলছে
বেশিরভাগ বিশ্লেষক ও বেটিং পূর্বাভাসে ইংল্যান্ডকে পরিষ্কার ফেভারিট ধরা হচ্ছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তাদের আক্রমণভাগ ছিল অত্যন্ত কার্যকর, আর ঘানার পানামার বিপক্ষে জয়টি ছিল তুলনামূলকভাবে কঠিন ও অল্প ব্যবধানে।
তবে বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টে কাগজে-কলমের হিসাব সবসময় মাঠে মেলে না। ঘানার শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণ এবং কাউন্টার অ্যাটাক ইংল্যান্ডকে ভোগাতে পারে।
কী আশা করা যায়?
ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ সম্ভবত ইংল্যান্ডের কাছেই থাকবে। তারা বলের দখল বেশি রাখবে এবং আক্রমণ গড়ে তুলবে। ঘানা অপেক্ষা করবে সুযোগের জন্য। যদি টুচেলের দল প্রথম ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের মতো ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে জয় পাওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।
তবে ঘানার লড়াকু মানসিকতা এবং দ্রুত প্রতিআক্রমণের ক্ষমতা বিবেচনায় ম্যাচটি ইংল্যান্ডের জন্য মোটেও সহজ হওয়ার কথা নয়।



