টানা বৃষ্টিতে সিলেটে টিলা ধস, ভেঙে পড়ল বাড়ির গার্ডওয়াল
কয়েক দিন ধরেই থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছিল সিলেটে। আবহাওয়া অফিসের সতর্কবার্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সম্ভাব্য বন্যার পূর্বাভাস আর প্রশাসনের টিলা ধসের ঝুঁকি নিয়ে মাইকিং, সব মিলিয়ে এক ধরনের উৎকণ্ঠা ছিল সীমান্তঘেঁষা জনপদজুড়ে। সেই আশঙ্কাই এবার বাস্তবে রূপ নিল।
বুধবার সকাল ১০টার দিকে সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার লক্ষণাবন্দ পূর্বভাগ এলাকায় টিলা ধসের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি বসতবাড়ির গার্ডওয়াল ভেঙে পড়ে এবং বাড়ির পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টিতে টিলার মাটি নরম হয়ে যাওয়ার পর হঠাৎ করেই ধস নামে। ধসে বাড়িটির গার্ডওয়াল তলদেশের মাটিসহ নিচে নেমে যায়। এতে বাড়ির বাথরুম এবং পেছনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও মূল ভবনটি এখনো অক্ষত রয়েছে।
৭ নম্বর লক্ষণাবন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খলকুর রহমান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িটি রাস্তার পাশেই অবস্থিত। গার্ডওয়াল ভেঙে পড়ায় বাড়ির পেছনের অংশে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে পরিবারের সদস্যরা এখনো মূল ঘরেই অবস্থান করছেন।
তিনি জানান, টিলা ধসের ঝুঁকি বিবেচনায় টিলার পাশের বাসিন্দাদের বারবার সতর্ক করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান, সদস্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিংও করা হচ্ছে। তবে অনেকেই বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে চাইছেন না।
খালেকুর রহমান বলেন, “টিলাতে থাকা মানুষজন ঘরবাড়ি রেখে যেতে চান না। তারা বলেন, কোথায় যাবো।”
গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি বড় ধরনের নয় এবং এতে কেউ হতাহত হয়নি। তারপরও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তিনি বলেন, “চেয়ারম্যান-মেম্বারদের মাধ্যমে নিয়মিত মাইকিং করা হচ্ছে। সবাইকে নিরাপদে থাকার জন্য বলা হয়েছে।”
এর আগে টানা বর্ষণের কারণে সিলেটে টিলা ধসের ঝুঁকি বাড়ার কথা জানিয়েছিল প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় অন্তত ১৬০টি টিলা ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এসব এলাকায় বসবাসকারী পরিবারগুলোকে সতর্ক করা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনও সিলেট অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পাহাড় ও টিলা সংলগ্ন এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে অপ্রয়োজনে ঝুঁকি না নেওয়ার এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।




