আজকের সংবাদ | Promoting Diversity, Teaching Culture.
ig x

Promoting Diversity, Teaching Culture.

শিরোনাম
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে কড়াকড়িপুলিশ হেফাজতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীজ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লসমালোচনার মুখে উপহার দেওয়া সেই বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকারখানায় ঢুকে চীনা কর্মকর্তাকে বেঁধে ৭০ লাখ টাকা লুটহৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কাদের সিদ্দিকীযুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে কড়াকড়িপুলিশ হেফাজতে গাজী নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীজ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়লসমালোচনার মুখে উপহার দেওয়া সেই বই ফেরত নিলেন ধর্ম প্রতিমন্ত্রীকারখানায় ঢুকে চীনা কর্মকর্তাকে বেঁধে ৭০ লাখ টাকা লুটহৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কাদের সিদ্দিকী
সিলেট

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে কড়াকড়ি

MATI PROTIDINSeptember 20, 2026
শেয়ার করুন:

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী সিলেটের শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন করে ভর্তি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেশটির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তি সীমিত করার পাশাপাশি সিলেটের আবেদনকারীদের জন্য আলাদা আঞ্চলিক বিধিনিষেধ বা বাড়তি যাচাই চালু করেছে বলে যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ড্যাজলিং ডনের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

১৭ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাজ্যের কয়েক ডজন বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য দেশব্যাপী ভর্তি স্থগিত, নির্দিষ্ট অঞ্চলভিত্তিক আবেদন সীমিত এবং কিছু কোর্সে ভর্তি বন্ধের মতো ব্যবস্থা নিয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় সিলেট ও ঢাকার আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ কড়াকড়ি আরোপ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব দাবির সবগুলো সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকাশ্য ওয়েবসাইটে একইভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানে সিলেটিদের জন্য স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, কোথাও সাময়িক স্থগিতাদেশ, আবার কোথাও বাড়তি যাচাই চলছে কি না, তা প্রতিষ্ঠানভিত্তিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

দ্য ড্যাজলিং ডনের প্রতিবেদনে সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য সরাসরি ভর্তি স্থগিতের দাবি করা হয়েছে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ওয়েলস, অ্যাবেরিস্টউইথ ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব চেস্টার, ক্যান্টারবেরি ক্রাইস্ট চার্চ ইউনিভার্সিটি, রিজেন্ট কলেজ লন্ডন ও ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটনের ক্ষেত্রে।

এ ছাড়া অ্যাস্টন ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব হালের লন্ডন শাখায় সিলেটের ঠিকানা বা শিক্ষাগত পটভূমির আবেদনকারীদের আবেদন প্রক্রিয়াও স্থগিত রাখার দাবি করা হয়েছে।

লন্ডন সাউথ ব্যাংক ইউনিভার্সিটি ঢাকা ও সিলেট থেকে সরাসরি স্নাতক পর্যায়ের আবেদন বন্ধ করেছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কার্ডিফ মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ থেকে স্নাতক পর্যায়ের আবেদন বন্ধ রেখে সিলেটের ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এর বিপরীতে ইউনিভার্সিটি অব ব্রাইটনের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা ভর্তি-তথ্য, যোগ্যতা, আবেদনপ্রক্রিয়া ও অনুমোদিত এজেন্টের তালিকা রয়েছে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২০২৭ সালের আবেদন-সংক্রান্ত তথ্যও সেখানে দেওয়া হচ্ছে।

অর্থাৎ ব্রাইটনের ক্ষেত্রে দ্য ড্যাজলিং ডনের প্রতিবেদনে সিলেটি শিক্ষার্থীদের ভর্তি স্থগিতের যে দাবি করা হয়েছে, তার সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রকাশ্য ওয়েবসাইটের তথ্যের পুরোপুরি মিল নেই।

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও বাড়ছে বিধিনিষেধ
প্রতিবেদনে শুধু সিলেট নয়, বাংলাদেশ থেকে সামগ্রিকভাবে আবেদন নেওয়া বন্ধ করেছে এমন বেশ কিছু প্রতিষ্ঠানের নামও রয়েছে। এর মধ্যে অ্যাংলিয়া রাসকিন ইউনিভার্সিটি, কিংস্টন ইউনিভার্সিটি, কিল ইউনিভার্সিটি, র‍্যাভেনসবর্ন ইউনিভার্সিটি লন্ডন, ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি, অক্সফোর্ড ব্রুকস ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড, ইউনিভার্সিটি অব পোর্টসমাউথ, কভেন্ট্রি ইউনিভার্সিটি, মিডলসেক্স ইউনিভার্সিটি ও ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট্রাল ল্যাঙ্কাশায়ার, ইউনিভার্সিটি অব ওয়েলস ট্রিনিটি সেন্ট ডেভিড এবং কয়েকটি বেসরকারি পথভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে। কিউএ হায়ার এডুকেশনের মাধ্যমে পরিচালিত কিছু অংশীদার প্রোগ্রামে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার জন্য ভর্তির নিশ্চয়তাপত্র দেওয়া বন্ধ রাখার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তি, কোর্স এবং ভর্তির নিশ্চয়তাপত্র দেওয়ার নীতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। তাই এসব দাবির ক্ষেত্রেও সর্বশেষ অফিসিয়াল নীতিমালা দেখা জরুরি।

ভিসা কমপ্লায়েন্সে নতুন কাঠামো

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীসহ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ভিসা কমপ্লায়েন্স গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আপনার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের হোম অফিস ১ জুন ২০২৬ থেকে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ‘বেসিক কমপ্লায়েন্স অ্যাসেসমেন্ট’ বা বিটিএ চালু করেছে। এতে শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার, ভর্তি হওয়ার হার এবং কোর্স সম্পন্ন করার হারকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশের নিচে রাখার শর্ত রয়েছে। শিক্ষার্থীদের ভর্তি হওয়ার হার হতে হবে অন্তত ৯৫ শতাংশ। ২০২৬–২৭ সালের মূল্যায়নে কোর্স সম্পন্ন করার হার কমপক্ষে ৮৫ শতাংশ এবং ২০২৭ সালের জুন থেকে ৯০ শতাংশ হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার ৫ শতাংশ বা তার বেশি হলে ওই সূচকে প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিতে পড়তে পারে। তবে ৫ শতাংশে পৌঁছালেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদেশি শিক্ষার্থী নেওয়ার অনুমতি বাতিল হবে, বিষয়টি এমন নয়। পরিস্থিতি ও অন্যান্য শর্ত বিবেচনা করে হোম অফিস ব্যবস্থা নিতে পারে।
গত আগস্টে লন্ডনের ব্লুমসবারি ইনস্টিটিউটের স্পনসর অনুমোদন বাতিলের ঘটনাকেও প্রতিবেদনে এর উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সিলেট কেন আলাদাভাবে নজরে?

দ্য ড্যাজলিং ডনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সিলেটের দীর্ঘদিনের অভিবাসন ও শিক্ষার্থী যাতায়াতের সম্পর্কের কারণে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের কমপ্লায়েন্স পর্যালোচনায় সিলেটকে বেশি যাচাইয়ের আওতায় রাখা হচ্ছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীদের ক্রেডিবিলিটি ইন্টারভিউ, আর্থিক নথি যাচাই, পড়াশোনার উদ্দেশ্য এবং যুক্তরাজ্যে যাওয়ার পর অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থান পরিবর্তনের মতো বিষয়গুলো কিছু প্রতিষ্ঠানের উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

তবে এসব দাবির ক্ষেত্রে প্রতিবেদনে কোনো নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তার সরাসরি বক্তব্য বা নাম প্রকাশ করা হয়নি। আন্তর্জাতিক ভর্তি পরামর্শকদের উদ্ধৃত করে বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।

সব বিশ্ববিদ্যালয়ে একই নীতি নয়

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে কিছু প্রতিষ্ঠান পুরো ভর্তি বন্ধ না করে নির্দিষ্ট কোর্স বা শিক্ষাস্তরে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বার্মিংহাম সিটি ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক ও গবেষণাভিত্তিক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পর্যায়ে ভর্তি বন্ধের দাবি করা হয়েছে। বাকিংহামশায়ার নিউ ইউনিভার্সিটিতে স্নাতক পর্যায়ে, ইউনিভার্সিটি অব ল-তে কিছু ব্যবসা ও ব্যবস্থাপনা কোর্সে এবং ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ারে নির্বাচিত কোর্সে বিধিনিষেধের কথা বলা হয়েছে।

ইউনিভার্সিটি অব উলভারহ্যাম্পটন, ইউনিভার্সিটি অব ডার্বি ও ইউনিভার্সিটি অব গ্রেটার ম্যানচেস্টারেও নির্দিষ্ট স্নাতকোত্তর ও গবেষণাধর্মী কোর্সে সীমাবদ্ধতার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে আলস্টার ইউনিভার্সিটির বাংলাদেশবিষয়ক অফিসিয়াল পেজে সিলেট থেকে আবেদন গ্রহণ না করার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। একই পেজে নির্দিষ্ট দুটি মাস্টার্স কোর্সেও আবেদন না নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সেন্ট মেরিজ ইউনিভার্সিটি লন্ডনের
বাংলাদেশবিষয়ক পেজেও সিলেট অঞ্চল থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর দুই পর্যায়েই আবেদন গ্রহণ না করার কথা উল্লেখ রয়েছে।

স্ট্যাফোর্ডশায়ার ইউনিভার্সিটি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর সেশনে বাংলাদেশ থেকে আবেদন গ্রহণ করবে না।

তবে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একটি সেশন বা নির্দিষ্ট কোর্সের আবেদন বন্ধ থাকলেও পরবর্তী সেশনে আবেদন চালু থাকতে পারে। তাই কোনো একটি তালিকা দেখে সব বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে একই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

আবেদন করার আগে যা যাচাই করবেন
বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যে পড়তে আগ্রহী সিলেটের শিক্ষার্থীদের কোনো এজেন্টের মৌখিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ ভর্তি নীতিমালা যাচাই করা জরুরি।

আবেদনের আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে বাংলাদেশ ও সিলেটের শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো বিধিনিষেধ আছে কি না, পছন্দের বিষয়ে ভর্তি নেওয়া হচ্ছে কি না এবং ভর্তির পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়ার শর্ত কী, তা নিশ্চিত করতে হবে।

কারণ বর্তমানে যে বিধিনিষেধ একটি নির্দিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়, কোর্স বা সেশনের জন্য কার্যকর, সেটি পরবর্তী সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই সর্বশেষ অফিসিয়াল তথ্যই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ভিত্তি।

সম্পর্কিত সংবাদ

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছ
সিলেট

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছ

September 17, 2026

জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ বলেছেন, সরকারের সদিচ্ছায় এবং এ প্রতিষ্ঠানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন,...

আরও পড়ুন