আজকের সংবাদ | Promoting Diversity, Teaching Culture.
ig x

Promoting Diversity, Teaching Culture.

শিরোনাম
দেড় দশকে সিলেটের মানচিত্র থেকে হারিয়েছে ৪৬০ টিলাইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ালেন ট্রাম্পদ. কোরিয়ার ম্যাচে বাজল চিরশত্রু উ. কোরিয়ার জাতীয় সংগীতবাংলা চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহর জন্মদিন আজইউরোপকে এক মাস অপরিশোধিত তেল দেবে না সৌদি আরবসিলেটে হাম উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যুদেড় দশকে সিলেটের মানচিত্র থেকে হারিয়েছে ৪৬০ টিলাইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা ২০৩১ সাল পর্যন্ত বাড়ালেন ট্রাম্পদ. কোরিয়ার ম্যাচে বাজল চিরশত্রু উ. কোরিয়ার জাতীয় সংগীতবাংলা চলচ্চিত্রের রাজপুত্র সালমান শাহর জন্মদিন আজইউরোপকে এক মাস অপরিশোধিত তেল দেবে না সৌদি আরবসিলেটে হাম উপসর্গে আরো ২ শিশুর মৃত্যু
সিলেট

দেড় দশকে সিলেটের মানচিত্র থেকে হারিয়েছে ৪৬০ টিলা

MATI PROTIDINSeptember 19, 2026
শেয়ার করুন:

কয়েক বছর আগেও বাড়ি থেকে বের হলেই চোখে পড়ত সবুজে ঢাকা উঁচু-নিচু টিলা। কোথাও গাছপালায় ঢাকা ঢাল, কোথাও টিলার গা বেয়ে নেমে গেছে ছোট পথ। শিশুদের কাছে কোনোটি ছিল খেলার জায়গা, আবার অনেকের কাছে ছিল শৈশবের চেনা ভূদৃশ্য।

এখন সেই চেনা দৃশ্যের অনেকটাই বদলে গেছে। কোথাও টিলার জায়গায় উঠেছে বহুতল ভবন, কোথাও কেটে সমতল করে তৈরি করা হয়েছে আবাসিক প্লট। যে জায়গাগুলো একসময় সিলেটের স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতির অংশ ছিল, সেখানেই এখন ছড়িয়ে পড়েছে নির্মাণ।

পরিবেশবাদী সংগঠন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) তথ্য বলছে, গত দেড় দশকে সিলেটের ছয়টি উপজেলা ও মহানগর এলাকায় থাকা ১ হাজার ২৫টি টিলার মধ্যে ৪৬০টির কোনো অস্তিত্ব নেই। ২০০৯ সালে যেখানে টিলা ছিল ১ হাজার ২৫টি, বর্তমানে টিকে আছে ৫৬৫টি। অর্থাৎ দেড় দশকে হারিয়ে গেছে ৪৬০টি টিলা।

টিলার জায়গায় আবাসিক এলাকা

সিলেট নগরের বালুচর এর বড় উদাহরণ। একসময় এ এলাকার বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে ছিল টিলা। সময়ের সঙ্গে সেই টিলাগুলো কেটে গড়ে উঠেছে আবাসিক এলাকা। তৈরি হয়েছে বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও গড়ে উঠেছে টিলা ও আশপাশের জমিতে।

নগরের ৮ ও ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের তারাপুর এবং আলীবাহার চা-বাগানসংলগ্ন এলাকাতেও একই পরিবর্তন দেখা গেছে। একসময় টিলাপ্রধান এসব এলাকায় এখন বিস্তৃত হয়েছে আবাসিক এলাকা।
শহরতলির বাইশটিলা এলাকাতেও উঁচু টিলার অনেকটাই এখন সমতল। স্থানীয়ভাবে এসব জায়গায় আবাসন গড়ে তোলার জন্য টিলা কাটার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

শুধু পুরোনো টিলা হারিয়ে যাওয়ার গল্প নয়, এখনো টিলা কাটার চিত্র দেখা যাচ্ছে নগরের বিভিন্ন এলাকায়।

সম্প্রতি করেরপাড়া, হাওলাদারপাড়া, দুসকি ও মোহাম্মদী আবাসিক এলাকায় গিয়ে টিলা কাটার চিত্র দেখা গেছে।

করেরপাড়ায় একটি বড় টিলার এক পাশ কেটে সমতল করা হয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে আবাসিক প্লট। একই টিলার অন্য অংশেও কাটার চিহ্ন রয়েছে। স্থানীয়ভাবে একটি সংগঠনের নামে সেখানে টিলা কাটার কাজ চলছে বলে জানা গেছে।

আলীবাহার চা-বাগান ও মোহাম্মদী আবাসিক এলাকার মাঝামাঝি সড়কের পাশে টিনের বেড়া দেওয়া একটি জায়গাতেও টিলা কাটার চিহ্ন দেখা গেছে। আশপাশেই রয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি সাইনবোর্ড। সেখানে টিলা কাটার শাস্তির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর কিছু দূরে একটি বাড়ির পেছনে থাকা বড় একটি টিলারও অনেকটা অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। ফলে একসময়কার উঁচু ভূমি এখন প্রায় সমতল।

কোথায় কত টিলা ছিল

বেলার করা রিটের পর প্রশাসনের দেওয়া তথ্যেও সিলেটে টিলা কমে যাওয়ার চিত্র পাওয়া যায়।

প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সিলেট সদর ও মহানগর এলাকায় ১৯৯টি, গোয়াইনঘাটে ৪৪টি, কোম্পানীগঞ্জে একটি, গোলাপগঞ্জে ৪১৩টি এবং জৈন্তাপুরে ৯৮টি টিলা ছিল। কানাইঘাটে টিলার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৬০ দশমিক ৬২ একর এবং ফেঞ্চুগঞ্জে ২৫১ দশমিক ৮ একর।

দক্ষিণ সুরমায় বেশ কয়েকটি টিলা থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও প্রশাসনের ওই প্রতিবেদনে সেগুলোর সংখ্যা দেওয়া হয়নি।

এ ছাড়া সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, ফেঞ্চুগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার বিভিন্ন এলাকাতেও টিলা কমে আসছে বলে পরিবেশবাদীরা জানিয়েছেন।
তবে বেলার যে হিসাবের ভিত্তিতে ৪৬০টি টিলা হারিয়ে যাওয়ার তথ্য দেওয়া হয়েছে, সেটি আদালতের মামলায় অন্তর্ভুক্ত ছয়টি উপজেলা ও সিলেট মহানগর এলাকার ২০০৯ ও বর্তমান সময়ের তুলনামূলক হিসাব।

আদালতের নির্দেশ, তবু থামেনি টিলা কাটা
টিলা কাটা বন্ধ ও অবশিষ্ট টিলা রক্ষার দাবিতে বেলা ২০১১ সালে হাইকোর্টে রিট করে। মামলাটির নম্বর ৯৭৫০/২০১১।

বেলার সিলেট সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, ওই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১২ সালের ১ মার্চ হাইকোর্ট টিলা কাটার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ এবং টিলা সংরক্ষণের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে টিলার জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়।

তবে তাঁর অভিযোগ, আদালতের নির্দেশনার পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। এ কারণে টিলা কাটা বন্ধ করা যায়নি।

শাহ সাহেদা আক্তার বলেন, এখন সিলেটে যেসব টিলা টিকে আছে, সেগুলোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা করা প্রয়োজন। মামলাভুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ টিলা চিহ্নিত করে সেখানে সাইনবোর্ড দেওয়া দরকার। পাশাপাশি যেসব টিলা কাটা হয়েছে, সেসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
শুধু একটি টিলা নয়, বদলে যাচ্ছে পুরো ভূদৃশ্য
সিলেটের হারিয়ে যাওয়া টিলাগুলোর গল্প আসলে শুধু ৪৬০টি ভূখণ্ড হারিয়ে যাওয়ার হিসাব নয়। এর সঙ্গে বদলে যাচ্ছে শহর ও আশপাশের এলাকার স্বাভাবিক ভূপ্রকৃতি।

কোনো টিলা পুরোপুরি কেটে ফেলা হয়েছে, কোনোটি আবার আংশিক কেটে রেখে দেওয়া হয়েছে। কোথাও টিলার ঢাল কেটে বাড়ি উঠেছে, কোথাও তৈরি হয়েছে আবাসিক প্লট। সবুজে ঢাকা উঁচু ভূমির জায়গা ধীরে ধীরে দখল করে নিচ্ছে সমতল নির্মাণভূমি।

২০০৯ সালে ১ হাজার ২৫টি টিলা থেকে দেড় দশকে সংখ্যাটি নেমে এসেছে ৫৬৫টিতে। এই হিসাব শুধু একটি সংখ্যাগত পরিবর্তন নয়, সিলেটের পরিচিত ভূদৃশ্য কীভাবে ধীরে ধীরে বদলে যাচ্ছে, তারও একটি স্পষ্ট চিত্র।

সম্পর্কিত সংবাদ

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছ
সিলেট

হবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছ

September 17, 2026

জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ মো. জি কে গউছ বলেছেন, সরকারের সদিচ্ছায় এবং এ প্রতিষ্ঠানে যারা দায়িত্ব পালন করছেন,...

আরও পড়ুন
হবিগঞ্জে কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১ জনের
সিলেট

হবিগঞ্জে কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১ জনের

September 17, 2026

হবিগঞ্জের মাধবপুরে একটি কারখানার স্পিনিং সাইডে কম্প্রেসার বিস্ফোরণে সোহেল রানা (৪০) নামে এক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায়...

আরও পড়ুন