ধলাইয়ের পানি কমলেও ফুলছে মনু, মৌলভীবাজারে পানিবন্দি প্রায় ৫ হাজার পরিবার
টানা বর্ষণ আর ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে মৌলভীবাজারের বন্যা পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করলেও মনু নদীর পানি বেড়েই চলেছে। বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়া এই নদীর পানি নতুন নতুন এলাকায় ঢুকে পড়ায় জেলার চার উপজেলায় প্রায় পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, মনু ও ধলাই নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভাঙন দেখা দেওয়ায় মৌলভীবাজার সদর, কমলগঞ্জ, রাজনগর ও কুলাউড়া উপজেলার অন্তত ১৭টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ধলাই নদীর ভাঙনে কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর, ইসলামপুর ও মাধবপুর ইউনিয়নের অন্তত ১৫টি গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়। তবে রাতের দিকে ধলাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও মনু নদীর পানি বাড়তে থাকায় কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চল এবং রাজনগরের নতুন নতুন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।
বর্তমানে কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সীবাজার ইউনিয়ন এবং রাজনগর উপজেলার টেংরা ও কামারচাক ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত রয়েছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়ায় অন্তত ৯৫টি পরিবারকে আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বন্যার পানিতে তারাপাশা-টেংরা সড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আউশ ধান ও বিভিন্ন ধরনের সবজিক্ষেত প্লাবিত হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে ক্ষয়ক্ষতির শঙ্কা বাড়ছে।
মৌলভীবাজার জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া জানান, এখন পর্যন্ত চার উপজেলার ৪ হাজার ১৭৫টি পরিবার পানিবন্দি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পানি নেমে গেলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
এদিকে মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, মনু নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি স্থানে প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধগুলো রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে মেরামতের কাজ চলছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে উজান থেকে আরও পাহাড়ি ঢল নেমে এলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।




