মেসির জাদু নাকি রাংনিকের প্রেসিং? আর্জেন্টিনা–অস্ট্রিয়া ম্যাচে কার হাসি ফুটবে?
নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল আইনবিদ,কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে সব ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু কিছু ম্যাচ হয়ে ওঠে দুটি ভিন্ন ফুটবল দর্শনের সংঘর্ষ। আজকের আর্জেন্টিনা বনাম অস্ট্রিয়া ম্যাচ ঠিক তেমনই একটি লড়াই। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং রাল্ফ রাংনিকের উচ্চ-প্রেসিংয়ে বিশ্বাসী সংগঠিত অস্ট্রিয়া,দুই দলই প্রথম ম্যাচে জয় পেয়ে আত্মবিশ্বাসী। বিজয়ী দল নকআউট পর্বে এক পা এগিয়ে যাবে।
মেসির ফর্ম: আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অস্ত্র
প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ে পুরো আলো কেড়ে নিয়েছেন লিওনেল মেসি। হ্যাটট্রিক করে তিনি শুধু দলকে জয় এনে দেননি, বিশ্বকাপের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসের রেকর্ডও স্পর্শ করেছেন। আর মাত্র একটি গোল করলেই তিনি এককভাবে ইতিহাসের শীর্ষে উঠবেন।
তবে আর্জেন্টিনার শক্তি শুধু মেসিতে সীমাবদ্ধ নয়। জুলিয়ান আলভারেজ, লাউতারো মার্টিনেজ, এনজো ফার্নান্দেজ ও অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মতো তারকাদের নিয়ে গঠিত আক্রমণ ও মাঝমাঠ বিশ্বের অন্যতম ভারসাম্যপূর্ণ ইউনিট। কোচ লিওনেল স্কালোনির দল এখনও ধারাবাহিকতা ও অভিজ্ঞতায় এগিয়ে।
অস্ট্রিয়াকে অবমূল্যায়ন করার সুযোগ নেই
অনেকে অস্ট্রিয়াকে আন্ডারডগ ভাবলেও কোচ রাল্ফ রাংনিকের দলকে হালকাভাবে নেওয়া বড় ভুল হবে। প্রথম ম্যাচে জর্ডানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জয় তাদের আত্মবিশ্বাস অনেক বাড়িয়েছে।
অস্ট্রিয়ার প্রধান শক্তি সংগঠিত উচ্চ-প্রেসিং, দ্রুত ট্রানজিশন এবং প্রতিপক্ষের ভুলকে কাজে লাগানো। ডেভিড আলাবা, মার্সেল সাবিৎজার ও মার্কো আরনাউটোভিচের অভিজ্ঞতা এই দলকে বিপজ্জনক করে তুলেছে। রাংনিকের কৌশল আর্জেন্টিনার বল দখলভিত্তিক বিল্ড-আপ ফুটবলে চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে প্রথম ২০-২৫ মিনিট যদি অস্ট্রিয়া মিডফিল্ডে আধিপত্য বিস্তার করে, তাহলে বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের জন্য ম্যাচ কঠিন হয়ে উঠবে।
ট্যাকটিক্যাল যুদ্ধ: মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ
ম্যাচের ফলাফল অনেকাংশে নির্ভর করবে মাঝমাঠের লড়াইয়ের ওপর। আর্জেন্টিনা সাধারণত বল দখল করে ধৈর্য ধরে আক্রমণ গড়ে তোলে। অন্যদিকে অস্ট্রিয়া দ্রুত বল কেড়ে নিয়ে উল্লম্ব ও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে পছন্দ করে।
স্কালোনি ইতোমধ্যে স্বীকার করেছেন, অস্ট্রিয়া একটি কঠিন প্রতিপক্ষ এবং তাদের প্রেসিং যেকোনো দলের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
পরিসংখ্যান ও বাস্তবতা
বর্তমান ফর্ম, স্কোয়াডের গভীরতা এবং বিশ্বচ্যাম্পিয়নের অভিজ্ঞতায় আর্জেন্টিনা স্পষ্ট ফেভারিট। বিভিন্ন বিশ্লেষণে তাদের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু বিশ্বকাপের ইতিহাস বারবার দেখিয়েছে-সংগঠিত, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও শারীরিকভাবে ফিট দল বড় দলকে বিপাকে ফেলতে পারে। অস্ট্রিয়া সেই ধরনের দল।
পরিশেষে বলতে হয়, কাগজে-কলমে আর্জেন্টিনা এগিয়ে। মেসির অসাধারণ ফর্ম, দলের অভিজ্ঞতা এবং আক্রমণভাগের বৈচিত্র্য তাদের শক্তি। তবে অস্ট্রিয়ার প্রেসিং, শারীরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত শৃঙ্খলা ম্যাচকে একতরফা হতে দেবে না।
আমার বিশ্লেষণে আর্জেন্টিনা বেশিরভাগ সময় ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করবে, কিন্তু অস্ট্রিয়া লড়াকু মানসিকতায় কঠিন পরীক্ষা নেবে।
সম্ভাব্য ফলাফল: আর্জেন্টিনা ২–১ অস্ট্রিয়া।আজ যদি মেসি আবার জ্বলে ওঠেন, তাহলে ডালাসের এই রাত আরেকটি ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হয়ে থাকবে।



