আজকের সংবাদ | Promoting Diversity, Teaching Culture.
ig x

Promoting Diversity, Teaching Culture.

শিরোনাম
যতই চাপ আসুক, মাথা নত করবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানরোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীঘরের হাঁস-লাউ-ফল নিয়ে এসে ওসিকে বিদায় দিলেন স্থানীয়রাশ্রেনিকক্ষে গান গেয়ে আলোচিত সেই বিউটি পাল জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকহামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১১ শিশুরচলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়ালযতই চাপ আসুক, মাথা নত করবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ানরোহিঙ্গাদের চিরকাল বাস্তুচ্যুত রাখতে চায় না বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রীঘরের হাঁস-লাউ-ফল নিয়ে এসে ওসিকে বিদায় দিলেন স্থানীয়রাশ্রেনিকক্ষে গান গেয়ে আলোচিত সেই বিউটি পাল জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষকহামের উপসর্গে প্রাণ গেল আরও ১১ শিশুরচলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা ২০০ ছাড়াল
সিলেট

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস, আতঙ্কে ২৫৯ বিদ্যালয়ের ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী

MATI PROTIDINJuly 7, 2026
শেয়ার করুন:

সকালের ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গেই শ্রেণিকক্ষে ঢুকে পড়ে শিশুরা। কেউ বই খুলে বসে, কেউ খাতায় লিখতে শুরু করে। কিন্তু পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি তাদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে আরেকটি অদৃশ্য আতঙ্ক। কখন ছাদের পলেস্তারা খসে পড়বে, কখন ফাটল ধরা দেয়াল ভেঙে পড়বে, সেই শঙ্কা নিয়েই চলছে পাঠদান।

হবিগঞ্জের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এমন বাস্তবতার মধ্যেই প্রতিদিন ক্লাস করছে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী। সম্প্রতি মাধবপুর উপজেলার একটি বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ ধসে একজন কর্মচারী আহত হওয়ার পর জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর ভবন নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

গত ২০ জুন সকাল ১১টার দিকে মাধবপুর উপজেলার আন্দিউড়া ইউনিয়নের হরিশ্যামা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষের ছাদের অংশ হঠাৎ ধসে পড়ে। এতে বিদ্যালয়ের দপ্তরী প্রকাশ দাস আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

ঘটনার পর বিষয়টি আদালতের নজরেও আসে। হবিগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহি দাস স্বপ্রণোদিত হয়ে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর তালিকা চেয়ে হবিগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন।

সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, এমন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে আরও অসংখ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

এর মধ্যে গৌরাঙ্গের চক বাবুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র সবচেয়ে উদ্বেগজনক। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৯৫ জন শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রায় ৩৪ বছর আগে নির্মিত একমাত্র ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়, ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়ার চিহ্ন স্পষ্ট। সম্প্রতি ভবনের ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাদি আহত হয়। এরপর থেকেই শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজমা আক্তার জানায়, ঝড়-বৃষ্টির সময় ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় তারা অনেক সময় পাশের বিদ্যালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম বলেন, “পরীক্ষা চলাকালে হঠাৎ ছাদের একটি অংশ ভেঙে পড়ে। এতে এক শিক্ষার্থী আহত হয়। প্রতিদিনই আতঙ্ক নিয়ে আমাদের ক্লাস নিতে হয়।”

একই অবস্থা জেলার প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সোমেশ্বরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েরও।

১৯৩৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে সর্বশেষ নতুন ভবন নির্মিত হয়েছিল ১৯৯৪ সালে। এরপর আর কোনো নতুন ভবন হয়নি।

প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর রায় বলেন, “ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। বৃষ্টির সময় শ্রেণিকক্ষের ভেতরে পানি পড়ে। ছাদের লিন্টেল ও পলেস্তারা খসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই পরিস্থিতির কারণে অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে, শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমছে।”

হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য বলছে, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৫২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৫৯টি বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২০টি বিদ্যালয়কে অতি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে হবিগঞ্জ সদরে ৩টি, লাখাইয়ে ৩টি, বাহুবলে ৩টি, মাধবপুরে ৩টি, চুনারুঘাটে ৩টি, নবীগঞ্জে ২টি, বানিয়াচংয়ে ১টি, আজমিরীগঞ্জে ১টি এবং শায়েস্তাগঞ্জে ১টি বিদ্যালয় রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের হিসাবে, এসব ঝুঁকিপূর্ণ ও অতি ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়েই বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। ফলে প্রতিদিনই হাজারো শিশু, শিক্ষক ও কর্মচারী অনিশ্চয়তার মধ্যে বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ নয়, জরাজীর্ণ ভবনগুলোর দ্রুত সংস্কার এবং নিয়মিত নিরাপত্তা মূল্যায়নের ব্যবস্থা না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহ আলম বলেন, “জেলার যেসব বিদ্যালয়ের ভবন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, সেগুলোর জন্য নতুন ভবন নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। আগামী অর্থবছরে এ বিষয়ে কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।”

তবে নতুন ভবনের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের প্রশ্ন, সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হওয়ার আগেই যদি আরেকটি ছাদ ধসে পড়ে, তার দায় নেবে কে?

সম্পর্কিত সংবাদ

মৌলভীবাজারে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ জনের
সিলেট

মৌলভীবাজারে বাস-অটোরিকশার সংঘর্ষ, প্রাণ গেল ৩ জনের

September 22, 2026

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার...

আরও পড়ুন
যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে কড়াকড়ি
সিলেট

যুক্তরাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়ে সিলেটি শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিয়ে কড়াকড়ি

September 20, 2026

যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষার জন্য যেতে আগ্রহী সিলেটের শিক্ষার্থীদের সামনে নতুন করে ভর্তি-সংক্রান্ত জটিলতা তৈরি হয়েছে। দেশটির কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশি...

আরও পড়ুন