যতই চাপ আসুক, মাথা নত করবে না ইরান: জাতিসংঘে পেজেশকিয়ান
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি জানিয়েছেন, শত চাপ ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরান কখনোই মাথা নত করবে না। তবে শক্তির ভাষা বাদ দিয়ে আলোচনার পথে হাঁটলে তেহরানও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
ভাষণের শুরুতে পেজেশকিয়ান দাবি করেন, সাধারণ ইরানিরা আজ ‘সন্ত্রাসবাদের শিকার’। একই সঙ্গে দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের চালানো ‘অবৈধ হামলার’ তীব্র নিন্দা জানান তিনি। এমন একটি দেশ থেকে তিনি জাতিসংঘে এসেছেন, যেখানে তাদের সর্বোচ্চ নেতাকে কোনো আইনি কাঠামো বা কারণ ছাড়াই হত্যা করা হয়েছে। যুদ্ধের প্রথম দিনেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় মিনাব শহরের একটি স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালেও বেসামরিক নাগরিকদের নিশানা করেনি ইরান। আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল, হাসপাতাল ও অবকাঠামোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, তার বিপরীতে নিজেদের ‘সর্বোচ্চ শক্তি’ দিয়ে আত্মরক্ষা করেছে তেহরান।
২০০ বছর ধরে ইরান কখনো অন্য কোনো দেশে আক্রমণ করেনি। উল্টো আজ তাদেরই আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার উৎস এবং ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ইরানের সামরিক শক্তি কোনো আগ্রাসনের জন্য নয়, বরং দেশের অগ্রগতির জন্য শক্তি ও জ্বালানি নিশ্চিত করতেই এ প্রস্তুতি। এমন এক শক্তিশালী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তারা গড়ে তুলেছে, যাতে কেউ ইরানের শহরগুলোতে বোমা হামলা করে পার পেয়ে যাওয়ার কথা ভাবতেও না পারে।
পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন পেজেশকিয়ান। তিনি জানান, শান্তিপূর্ণ উপায়ে পারমাণবিক প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার ইরানের ‘অবিচ্ছেদ্য অধিকার’। এ সময় তিনি ঘোষণা করেন, কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়, তবে শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক প্রযুক্তিতে কোনো সীমাবদ্ধতাও নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কড়া সমালোচনা করে তিনি জানান, এসব অনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সবচেয়ে বড় খেসারত দিচ্ছে সাধারণ মানুষ- বিশেষ করে অসুস্থ, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিতরা। নিজেদের ‘অবৈধ লক্ষ্য’ হাসিল করতেই যুক্তরাষ্ট্র একটি জাতির জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে। এছাড়া ইসরায়েলের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি টেনে তিনি বলেন, দেশটি পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির (এনপিটি) সই না করা সত্ত্বেও ইরানে আন্তর্জাতিক পরিদর্শক পাঠানোর জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে।



