গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণই শেষ কথা
ছাদিকুর রহমান ছাদিক
বেডফোর্ড,যুক্তরাজ্য
গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে জনগণই শেষ কথা তার প্রমাণ পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন।যে সিপিএম পশ্চিমবঙ্গে টানা ৩৪ বছর একনাগাড়ে ক্ষমতায় ছিল।সেই সরকারের নেতৃত্বে ছিল জ্যোতি বসু,বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য-এর মত বিখ্যাত রাজনীতিবিদ।সেই সিপিএম ২০১১ সালে একেবারে মাটি থেকে উঠে আসা মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেসের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি।টানা ৩ মেয়াদে মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকার পর এবার তার ইতি ঘটেছে।যে বিজেপির এক সময় পশ্চিমবঙ্গে কোন অস্তিত্ব ছিল না, ১০ বছর আগেও বিধানসভায় তাদের ছিল মাত্র ৩টি আসন।১০ বছরের ব্যবধানে একেবারে ক্ষমতার শিখরে গিয়েছে।এটি সম্ভব হয়েছে মমতা ব্যানার্জির একঘুয়েমি,একের পর এক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ হয় দল ত্যাগ নয় নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার ফলে।এক সময় মুকুল রায় কে বলা হত পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির চাণক্য। বলাহত ২০১১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পিছনে সাংগঠনিকভাবে যার সবচেয়ে বেশি অবদান সেই হচ্ছে মুকুল রায় কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুকুল রায় তৃণমূল করতে পারেনি তার কারণ পরিবারতন্ত্র,অভিষেকের মত অপরিপক্ক সদ্য ট্রিনএইজ পেরোনো যুবককে আল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক বানানো ছিল তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সবচেয়ে বড় ধাক্কা।সেই ধাক্কায় একের পর এক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ দল ত্যাগ করেন। তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিষ্ঠা করতে যে কয়জন নেতা মমতা ব্যানার্জির ছায়া সঙ্গী হিসাবে কাজ করেছেন,তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শিশির অধিকারী তার ছেলে ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে আসা এক সময়ে মমতা ব্যানার্জির ডান হাত খ্যাত তৃণমূল সরকারে সাবেক মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।২০২০ সালে তৃণমূলকে বিদায় দিয়ে যোগদেন ঘেরোয়া শিবিরে অর্থাৎ বিজেপিতে।২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে খোদ মততা ব্যানার্জিকে ভোটের রাজনীতিতে হাড়িয়ে দেশ জুড়ে তুমুল আলোচনার সৃষ্টি করেন।এবারও ২টি আসনে মমতা ব্যানার্জিকে হাড়িয়েছেন।রাজ্যর বিরোধী দলনেতা হিসাবে কাজ করেন।বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনি সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছেন।তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে ধীরে ধীরে অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে জনগণ থেকে দূরে সরে যায়।যে মমতা ব্যানার্জি বিশাল জনসমর্থন নিয়ে একেবারে মাটি থেকে আন্দোলন সংগ্রামের মধ্যে দিয়ে উঠে এসেছিল, বলা হয় সর্ব ভারতের সেরা ১০ জন রাজনীতিবিদের মধ্যে মততা একজন।কিন্তু তার একঘুয়েমি পরিবারতন্ত্র দাম্ভিকতা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস বিশ্বস্ত অনুগত কর্মীর অভাব তার ক্ষমতাকে চূর্ণবিচূর্ণ করে দিয়েছে।
সুতরাং গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে বিশ্বস্ত অনুগত কর্মঠ কর্মী বাহিনী আর জনগণের সাথে সম্পর্কের বিকল্প নাই।


