নেইমার হীন ব্রাজিল কি অপ্রতিরোধ্য হতে পারবে? হাইতি ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা ও মাঠের রসায়ন
নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল
আইনবিদ ও ক্রীড়ানুরাগী
ফুটবল বিশ্বের অন্যতম দল ব্রাজিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলটির সবচেয়ে বড় তারকা Neymar Jr.-এর অনুপস্থিতি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচে ইউকে সময় রাত দেড়টায়, বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ছয়টায় হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামছে ব্রাজিল।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নামতে যাচ্ছে সেলেসাওরা। ফলে প্রশ্ন উঠছে নেইমার ছাড়া ব্রাজিল কতটা কার্যকর, আর হাইতির বিপক্ষে তাদের সম্ভাবনাই বা কতটা?
কাগজে-কলমে এই ম্যাচে ব্রাজিলই স্পষ্ট ফেবারিট।
Fifa ranking, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা, খেলোয়াড়দের মান এবং সামগ্রিক ফুটবল ঐতিহ্যের বিচারে ব্রাজিল বহু ধাপ এগিয়ে হাইতির চেয়ে। নেইমার না থাকলেও Vinícius Júnior, Rodrygo, Raphinha কিংবা Endrick-এর মতো প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উপস্থিতি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট শক্তি জোগায়।
তবে আগের ম্যাচের অভিজ্ঞতা ব্রাজিলকে গুরুত্বপূর্ণ কিছু শিক্ষা দিয়েছে। নেইমার কেবল একজন গোলদাতা নন; তিনি মাঝমাঠ ও আক্রমণভাগের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেন। তাঁর অনুপস্থিতিতে ব্রাজিলের খেলার ছন্দ অনেক সময় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আক্রমণভাগে প্রতিভার অভাব না থাকলেও বল সরবরাহ ও সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রে কিছুটা সৃজনশীল ঘাটতি দেখা দেয়। ফলে হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হবে মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা এবং আক্রমণে ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
অন্যদিকে, হাইতি স্বাভাবিকভাবেই শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক কৌশল বেছে নিতে পারে। ঘন রক্ষণভাগ ভাঙতে হলে ব্রাজিলকে উইংভিত্তিক দ্রুত আক্রমণ, বলের গতি বাড়ানো এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্স লাইনের ফাঁক খুঁজে বের করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে ভিনিসিয়ুস ও রদ্রিগোর গতি এবং এক-দুই পাসের সমন্বয় হাইতির রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারে। ম্যাচের শুরুতেই গোল আদায় করতে পারলে ব্রাজিলের জন্য কাজ অনেক সহজ হয়ে যাবে।
এই ম্যাচটি তরুণ ব্রাজিলিয়ান ফুটবলারদের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। দীর্ঘদিন ধরে ব্রাজিলকে ঘিরে একটি ধারণা তৈরি হয়েছে যে, নেইমারের উপস্থিতিই দলের প্রধান ভরসা। কিন্তু আধুনিক ফুটবলে সফলতা আসে দলগত সমন্বয়, পরিকল্পনা এবং বিকল্প নেতৃত্ব থেকে। তাই এই ম্যাচে তরুণদের সামনে সুযোগ রয়েছে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করার এবং দেখিয়ে দেওয়ার যে ব্রাজিল এখন আর শুধুমাত্র একজন তারকার ওপর নির্ভরশীল নয়।
সবশেষে বলা যায়, ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা হলেও বাস্তবতা ও পরিসংখ্যান ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলে। হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের পয়েন্ট হারানোর সম্ভাবনা খুবই কম। বরং এটি এমন একটি ম্যাচ, যেখানে নেইমারবিহীন ব্রাজিল নিজেদের নতুন পরিচয় তুলে ধরার সুযোগ পাবে। যদি দলটি আক্রমণভাগে কার্যকর ফুটবল খেলতে পারে এবং মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়, তাহলে বড় ব্যবধানে জয়ও অসম্ভব নয়। আর সেটিই প্রমাণ করবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের আসল শক্তি কোনো একক তারকায় নয়, বরং সমষ্টিগত দক্ষতা ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতায়।



