পবিত্র মক্কায় হামলার শঙ্কা, সৌদি কর্তৃপক্ষের সতর্কতা জারি
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে পবিত্র নগরী মক্কায় সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে বিরল সতর্কতা জারি করেছিল সৌদি আরব। তবে সতর্কতা জারির কিছুক্ষণ পরই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।
আজ মঙ্গলবার সৌদি কর্তৃপক্ষ এ সতর্কতা জারি করে। মক্কার পাশাপাশি জেদ্দা ও তাইফেও সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
মক্কায় এমন সতর্কতা জারির ঘটনা সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম বলে জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি। ইসলামের সবচেয়ে পবিত্র নগরী মক্কায় অবস্থিত পবিত্র কাবা শরিফ।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরবের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে হুথিরা। সোমবার ইয়েমেন থেকে সৌদির দক্ষিণাঞ্চলে চালানো ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন আহত হন বলে জানা গেছে। এর জবাবে সৌদিও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের দাবি, গত পাঁচ দিনে তাদের বিভিন্ন অবস্থান লক্ষ্য করে তিন শতাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি আরব। এসব হামলায় এফ-১৫ ও ইউরোফাইটার টাইফুনসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান ব্যবহার করা হয়েছে বলে সোমবার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায় গোষ্ঠীটি।
সৌদি আরব হামলা অব্যাহত রাখলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করার হুমকিও দিয়েছে হুথিরা।
হুথিরা আরও দাবি করেছে, সৌদির হামলার জবাবে খামিস মুশাইতের বাদশাহ খালিদ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলায় কয়েক ডজন ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। এসব ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে বিমান রাখার হ্যাঙ্গার, রাডার ব্যবস্থা, রানওয়ে ও অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে হুথিরা।
গত দুই সপ্তাহে হুথি ও সৌদি আরবের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এতে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাত শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
২০১৪ সালে ইয়েমেনে সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে গৃহযুদ্ধ শুরু হলে হুথিরা রাজধানী সানা-সহ দেশটির বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে নেয়। এর পর ২০১৫ সালে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট অভিযান শুরু করে।
দীর্ঘ সংঘাতের পর ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। দীর্ঘ সময় বড় ধরনের হামলা-পাল্টা হামলা না হলেও সাম্প্রতিক উত্তেজনায় সেই পরিস্থিতি আবারও বদলে গেছে।



