বিশ্বকাপে সিলেটের রাজনীতি-প্রশাসনের কারা কোন দলের সমর্থক ?
বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই বাংলাদেশে অন্যরকম এক উৎসব। চার বছর পরপর আসা এই আসর ঘিরে পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে চায়ের দোকান, অফিস-আদালত, এমনকি রাজনৈতিক অঙ্গনেও জমে ওঠে তর্ক-বিতর্ক। ব্যতিক্রম নয় সিলেটও। রাজনীতি ও প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা অনেকেরই রয়েছে প্রিয় ফুটবল দল, যাদের সমর্থন নিয়ে বিশ্বকাপের সময় আলোচনাও কম হয় না।
সিলেটে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থনের প্রকাশ্য চিত্র দেখা গিয়েছিল ২০১৮ বিশ্বকাপের আগে। ওই বছরের ১৩ জুন সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি সিলেট জেলা কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচে অংশ নিয়েছিলেন তৎকালীন মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী এবং সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। আরিফ খেলেছিলেন ব্রাজিলের জার্সি গায়ে, কামরান আর্জেন্টিনার।
সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ মালিক নিজেকে ইংল্যান্ডের সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষ্য ছিল, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ইংল্যান্ডের সমর্থন এবং দেশটির ফুটবল ঐতিহ্যের কারণেই তিনি ইংল্যান্ডকে পছন্দ করেন।
সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করা আবুল কাহের চৌধুরী শামীমের পছন্দের দল আর্জেন্টিনা। তিনি জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই আর্জেন্টিনার সমর্থক এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনা ও লিওনেল মেসি তার প্রিয় ফুটবলারদের মধ্যে রয়েছেন।
অন্যদিকে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদীও আর্জেন্টিনার সমর্থক। তার দাবি, শুধু তিনি নন, পরিবারের অন্য সদস্যরাও আর্জেন্টিনা সমর্থন করেন।
সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পছন্দের দল ব্রাজিল। তার মতে, ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক ও নান্দনিক ফুটবল সবসময়ই দর্শকদের আকর্ষণ করে। তিনি নেইমারকে নিজের প্রিয় ফুটবলারদের একজন হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম সম্পাদক ইশতিয়াক আহমদ সিদ্দিকীও ব্রাজিলের সমর্থক। তার মতে, ব্রাজিলের খেলার ধরন এবং ঐতিহ্যই দলটির প্রতি তার ভালো লাগার প্রধান কারণ।
প্রশাসনিক অঙ্গনেও রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন পছন্দ। সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী নিজেকে জার্মানির সমর্থক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। তার মতে, জার্মান দলের শৃঙ্খলাবদ্ধ ও পরিকল্পিত ফুটবলই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তবে সরকারি দায়িত্বে থাকা অনেক কর্মকর্তা নিজেদের পছন্দের দল প্রকাশ করতে অনাগ্রহী। তাদের মতে, ব্যক্তিগত সমর্থন থাকলেও দায়িত্বের জায়গা থেকে নিরপেক্ষ থাকাই শ্রেয়।
বিশ্বকাপ এলেই সিলেটজুড়ে বাড়ির ছাদ, রাস্তার মোড়, বাজার কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দেখা যায় বিভিন্ন দেশের পতাকা। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেমন আছে, তেমনি ফুটবলেও রয়েছে বিভক্তি। তবে ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য যে দলেরই সমর্থক হোন না কেন, বিশ্বকাপের সময় সবার মিলনস্থল হয়ে ওঠে ফুটবলই।

