প্রটোকল ছাড়াই বন্ধুদের সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওরে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর
সরকারি কোনো প্রটোকল ছাড়াই স্কুল-কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে সুনামগঞ্জের টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরে বেড়িয়েছেন রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। শুক্রবার ও শনিবার (২৯ ও ৩০ আগস্ট) হাউজবোটে করে হাওরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখেন তিনি।
এ সময় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করা বিজিবি সদস্যদের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি সাধারণ পর্যটকদের সঙ্গে কুশল বিনিময় ও স্থানীয়দের সঙ্গে ছবি তোলেন প্রতিমন্ত্রী। বন্ধুদের সঙ্গে যাদুকাটা নদীতে গোসলও করেন তিনি।
পর্যটন উদ্যোক্তা ও আটলান্টিস এবং ফ্যালকন হাউজবোটের স্বত্বাধিকারী ইফতেখার হামিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর এই ভ্রমণের বিষয়টি তুলে ধরেন।
শুক্রবার দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে ইফতেখার হামিদ জানান, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ১৯৮৮ ব্যাচ ও নটরডেম কলেজের ১৯৯০ ব্যাচের একদল বন্ধু টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণে আসেন। তাঁদের একজন হাউজবোটটি বুকিং করেন। তবে তিনি জানাননি যে ওই দলের একজন প্রতিমন্ত্রী। পুরো ভ্রমণে হাবিবুর রশিদ নিজের রাজনৈতিক পরিচয় আড়াল রেখে ১৯৮৮ ব্যাচের বন্ধু হিসেবেই সবার সঙ্গে ছিলেন।
শনিবার দেওয়া আরেক পোস্টে ইফতেখার হামিদ জানান, শুক্রবার বন্ধুদের নিয়ে টাঙ্গুয়ার হাওরে আসেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। সন্ধ্যায় তিনি লাকমাছড়া ঘুরে দেখেন এবং সীমান্তে দায়িত্ব পালন করা বিজিবি সদস্যদের খোঁজ নেন। পরদিন সকালে বন্ধুদের সঙ্গে শহীদ সিরাজ লেক বা নীলাদ্রী ঘুরে দেখেন। সেখানে অন্যান্য পর্যটকের সঙ্গেও কুশল বিনিময় করেন তিনি।
ইফতেখার হামিদ বলেন, কোনো ধরনের প্রটোকল ছাড়াই একজন প্রতিমন্ত্রী হাওরে ঘুরতে এসেছেন। এমনকি হাউজবোট কর্তৃপক্ষও আগে থেকে জানত না যে তিনি এই ভ্রমণে থাকবেন। গত বছরও প্রতিমন্ত্রী রাজনৈতিক বন্ধুদের সঙ্গে একই হাউজবোটে টাঙ্গুয়ার হাওর ঘুরেছিলেন। এবার এসেছেন স্কুলের বন্ধুদের নিয়ে।
প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণের প্রশংসা করে ইফতেখার হামিদ আরও বলেন, পুরো ভ্রমণে হাবিবুর রশিদ ছিলেন প্রাণবন্ত ও হাস্যোজ্জ্বল। তাঁর রসবোধ ও সহজ-সরল আচরণ সবার মধ্যে মুগ্ধতা তৈরি করেছে।
এদিকে সাধারণ পর্যটকের মতো প্রতিমন্ত্রীর টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসা করছেন নেটিজেন ও পর্যটন উদ্যোক্তারা।
টাঙ্গুয়ার হাওরে হাউজবোট মালিকদের সংগঠন হাউজবোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশও শনিবার তাদের ফেসবুক পেজে প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর বন্ধুদের একাধিক ছবি প্রকাশ করে।
‘সাদামনের মানুষ ও টাঙ্গুয়ার হাওরের মুগ্ধতা!’ শিরোনামের ওই পোস্টে সংগঠনটি জানায়, কোনো বাড়তি প্রটোকল বা ভিআইপি নিরাপত্তার আড়ম্বর ছাড়াই সাধারণ পর্যটকের মতো বন্ধুদের সঙ্গে টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রকৃতি উপভোগ করেছেন প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
সংগঠনটির ভাষ্য, হাউজবোটের ছাদে সাধারণ পর্যটকদের মতো সময় কাটানো কিংবা বন্ধুদের সঙ্গে হাওরের প্রকৃতিতে মেতে ওঠার প্রতিমন্ত্রীর এই অনাড়ম্বর উপস্থিতি তাদের স্পর্শ করেছে। গত বছরও তিনি টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ করেছিলেন। এবারও তাঁর এমন সাদামাটা উপস্থিতি পর্যটনসংশ্লিষ্টদের নজর কেড়েছে।




