আজকের সংবাদ | Promoting Diversity, Teaching Culture.
ig x

Promoting Diversity, Teaching Culture.

শিরোনাম
বার্মিংহামে দায়িত্ব শেষে দেশে ফিরছেন মো. জসিম উদ্দিন, বিদায় সংবর্ধনায় প্রবাসীদের শুভেচ্ছাফিলিস্তিনিদের জন্য ১২ কোটি টাকা দেবেন গায়ক ম্যাকলমোরসতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপনের মাঝেই হঠাৎ রেগে গেলেন মেসি!ব্রিকস সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের অসুস্থতার খবরে যা বলল ভারতহবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছহবিগঞ্জে কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১ জনেরবার্মিংহামে দায়িত্ব শেষে দেশে ফিরছেন মো. জসিম উদ্দিন, বিদায় সংবর্ধনায় প্রবাসীদের শুভেচ্ছাফিলিস্তিনিদের জন্য ১২ কোটি টাকা দেবেন গায়ক ম্যাকলমোরসতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপনের মাঝেই হঠাৎ রেগে গেলেন মেসি!ব্রিকস সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের অসুস্থতার খবরে যা বলল ভারতহবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছহবিগঞ্জে কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১ জনের
মুক্তমত

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি: ঐতিহ্য, বর্তমান সংকট ও পুনর্গঠনের দিগন্ত

MATI PROTIDINMay 5, 2026
শেয়ার করুন:

জুবায়ের আহমেদ তুহিন

বার্মিংহাম,যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতি এক অবিচ্ছেদ্য ও গৌরবময় অধ্যায়। এই ভূখণ্ডে যে জাতীয় চেতনার বিকাশ ঘটেছে, তার পেছনে ছাত্রসমাজের অবদান অনস্বীকার্য। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, এবং ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে ছাত্ররা ছিল অগ্রভাগে। তারা কেবল রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীই ছিল না, বরং অনেক ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিয়েছে, দিকনির্দেশনা দিয়েছে এবং জাতিকে জাগ্রত করেছে।

স্বাধীনতার পর ছাত্র রাজনীতির সেই গৌরবময় ধারাবাহিকতা কিছুটা হলেও বজায় ছিল। নব্বইয়ের দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ছাত্র রাজনীতির চরিত্রে পরিবর্তন আসতে শুরু করে। আদর্শভিত্তিক রাজনীতির পরিবর্তে ধীরে ধীরে দলীয় স্বার্থ, ক্ষমতার লড়াই এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রাধান্য পেতে থাকে।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে ছাত্র রাজনীতিকে ঘিরে নানা বিতর্ক ও সমালোচনা রয়েছে। দেশের অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র রাজনীতি মানেই সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ভয়ভীতির পরিবেশ—এমন ধারণা গড়ে উঠেছে। ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রায়ই মারামারি, হামলা, এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনায় রূপ নেয়। ফলে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ছাত্র রাজনীতির প্রতি আস্থা হারাতে বসেছে এবং অনেকেই এটিকে এড়িয়ে চলতে চায়।

ছাত্র রাজনীতির এই অবক্ষয়ের পেছনে অন্যতম কারণ হলো জাতীয় রাজনৈতিক দলগুলোর অতিরিক্ত হস্তক্ষেপ। ছাত্র সংগঠনগুলো অনেক ক্ষেত্রে তাদের মূল লক্ষ্য—শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং গণতান্ত্রিক চর্চা—থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। বরং তারা বড় রাজনৈতিক দলের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এর ফলে স্বাধীন চিন্তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

এছাড়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অভাবও একটি বড় সমস্যা। অনেক ক্যাম্পাসে নিয়মিত ছাত্র সংসদ নির্বাচন হয় না, যার ফলে শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে নেতৃত্ব আসে উপরের নির্দেশনায়, নিচের অংশগ্রহণ ছাড়াই—যা একটি সুস্থ রাজনৈতিক পরিবেশের পরিপন্থী।

তবে সবকিছুর মাঝেও আশার আলো রয়েছে। বর্তমান প্রজন্ম আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি সচেতন, তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গিতে সমৃদ্ধ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের মাধ্যমে তারা দ্রুত সংগঠিত হতে পারে, মতামত প্রকাশ করতে পারে এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতে পারে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন তারই প্রমাণ।

ছাত্র রাজনীতিকে ইতিবাচক ধারায় ফিরিয়ে আনতে হলে কিছু মৌলিক পরিবর্তন জরুরি। প্রথমত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সহিংসতা ও সন্ত্রাসের রাজনীতি সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে নিরপেক্ষ ও কঠোর ভূমিকা পালন করতে হবে যাতে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে। দ্বিতীয়ত, ছাত্র সংগঠনগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত করে তাদের স্বকীয়তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, নিয়মিত ও গ্রহণযোগ্য ছাত্র সংসদ নির্বাচন চালু করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছাত্র রাজনীতিতে আদর্শ ও মূল্যবোধের পুনঃপ্রতিষ্ঠা। সততা, সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং যুক্তিনির্ভর চিন্তার চর্চা ছাড়া কোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি টেকসই হতে পারে না। শিক্ষার্থীদের উচিত নিজেদেরকে কেবল রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নয়, বরং সচেতন নাগরিক ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলা।

বাংলাদেশের ছাত্র রাজনীতি একসময় যেমন জাতির দিকনির্দেশনা দিয়েছে, তেমনি ভবিষ্যতেও দিতে পারে—যদি তা সঠিক পথে পরিচালিত হয়। এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, আন্তরিকতা এবং পরিবর্তনের সাহস। তরুণদের শক্তি, সৃজনশীলতা ও নৈতিকতা যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে ছাত্র রাজনীতি আবারও দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা: শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল দর্শনেরও লড়াই
খেলাধুলা

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা: শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল দর্শনেরও লড়াই

July 15, 2026

নূর আলম সিদ্দিকী রাসেলআইনবিদ, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক   বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া মানেই ইতিহাসের একটি নতুন...

আরও পড়ুন
‘মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও ফিরব’: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষা
মুক্তমত

‘মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও ফিরব’: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষা

July 11, 2026


নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল আইনবিদ, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক   রাজনীতির ইতিহাসে কিছু ঘোষণা শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত...

আরও পড়ুন
একজন গর্বিত হাফেজ বাবার দেওয়া ,শেষ চিঠির রাজপুত্র আমি
মুক্তমত

একজন গর্বিত হাফেজ বাবার দেওয়া ,শেষ চিঠির রাজপুত্র আমি

June 21, 2026

নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল কলামিস্ট, আইনজীবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক .আমার বাবা মরহুম হাফেজ ডাঃ আহসান উল্ল্যাহ সিদ্দিকী ছিলেন...

আরও পড়ুন