আজকের সংবাদ | Promoting Diversity, Teaching Culture.
ig x

Promoting Diversity, Teaching Culture.

শিরোনাম
বার্মিংহামে দায়িত্ব শেষে দেশে ফিরছেন মো. জসিম উদ্দিন, বিদায় সংবর্ধনায় প্রবাসীদের শুভেচ্ছাফিলিস্তিনিদের জন্য ১২ কোটি টাকা দেবেন গায়ক ম্যাকলমোরসতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপনের মাঝেই হঠাৎ রেগে গেলেন মেসি!ব্রিকস সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের অসুস্থতার খবরে যা বলল ভারতহবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছহবিগঞ্জে কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১ জনেরবার্মিংহামে দায়িত্ব শেষে দেশে ফিরছেন মো. জসিম উদ্দিন, বিদায় সংবর্ধনায় প্রবাসীদের শুভেচ্ছাফিলিস্তিনিদের জন্য ১২ কোটি টাকা দেবেন গায়ক ম্যাকলমোরসতীর্থদের সঙ্গে জয় উদযাপনের মাঝেই হঠাৎ রেগে গেলেন মেসি!ব্রিকস সম্মেলনের পর বিশ্বনেতাদের অসুস্থতার খবরে যা বলল ভারতহবিগঞ্জ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে: হুইপ জি কে গউছহবিগঞ্জে কারখানায় কম্প্রেসার বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ১ জনের
মুক্তমত

‘মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও ফিরব’: শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের নতুন পরীক্ষা

MATI PROTIDINJuly 11, 2026
শেয়ার করুন:


নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল

আইনবিদ, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

‘ডিসেম্বরে দেশে ফিরছেন শেখ হাসিনা, শীর্ষ নেতাদের নিয়ে করবেন আত্মসমর্পণ’

 

রাজনীতির ইতিহাসে কিছু ঘোষণা শুধু একজন নেতার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত থাকে না; তা একটি দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা তেমনই একটি ঘটনা।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরতে চান এবং প্রয়োজন হলে আত্মসমর্পণ করতেও প্রস্তুত। তিনি বলেছেন, দেশে ফিরলে গ্রেপ্তার বা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকি থাকলেও তিনি ফিরে যাবেন তবে স্বাধীন বিচারব্যবস্থা ও বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠিত হলে।

এই ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি শুধু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রত্যাবর্তনের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিচারব্যবস্থা, রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ।

শেখ হাসিনার দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি দীর্ঘ সময় দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

তাঁর শাসনামলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিভিন্ন অগ্রগতি অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তাঁর সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার, রাজনৈতিক বিরোধীদের ওপর চাপ, নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক এবং ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ নিয়ে দেশ-বিদেশে সমালোচনাও হয়েছে।

তাই তাঁর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ শুধু একটি দলের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।

জুলাই ২০২৪-এর আন্দোলন ও ক্ষমতার পরিবর্তন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বোঝার জন্য ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন পরবর্তীতে ব্যাপক সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। আন্দোলনকে ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণহানি এবং রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়।

পরিস্থিতির এক পর্যায়ে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে যান এবং দেশ ছাড়েন। এরপর বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়।

এই ঘটনাগুলো বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের সূচনা করে এবং পরবর্তী সময়ে বিচার, নির্বাচন ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়।

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে অভিযোগ ও বিচারপ্রক্রিয়া শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের আন্দোলন দমনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অভিযোগে আইনি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধসহ গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রসিকিউশনের অভিযোগের মধ্যে রয়েছে আন্দোলন দমনে অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ, সহিংসতার নির্দেশ বা দায় এবং রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ট্রাইব্যুনাল তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি বিষয় হলো-অভিযোগ এবং অপরাধ প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়।

শেখ হাসিনা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

 

একজন আইনবিদ হিসেবে এখানে মূল প্রশ্ন হলো-বিচারপ্রক্রিয়া কতটা স্বাধীন, স্বচ্ছ এবং ন্যায়সংগতভাবে পরিচালিত হচ্ছে।

গণতন্ত্রে জবাবদিহিতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ন্যায়বিচারের নীতিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণার সঙ্গে আওয়ামী লীগের বর্তমান অবস্থাও গুরুত্বপূর্ণভাবে যুক্ত।বাংলাদেশ ছাত্রলীগকে ২০২৪ সালের অক্টোবরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়।পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আওয়ামী লীগ এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দেয়।

এই নিষেধাজ্ঞা আদালতের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে নয়; বরং সরকারের নির্বাহী সিদ্ধান্ত এবং বিদ্যমান আইনি কাঠামোর অধীনে নেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করে।

সরকার এই পদক্ষেপকে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ব্যাখ্যা করেছে।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের পরিপন্থী বলে সমালোচনা করেছে।

এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তৈরি করেছে-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ কীভাবে বজায় রাখা হবে?

বিচার ও রাজনীতির মধ্যে ভারসাম্য একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল আইনের ঊর্ধ্বে নয়।কিন্তু একই সঙ্গে বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রতিশোধের হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত নয়।

গণতন্ত্রের শক্তি হলো, সেখানে অভিযোগের বিচার হবে আদালতে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো থাকবে নিরপেক্ষ।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা তাই শুধু একজন নেতার ভবিষ্যৎ নয়; এটি বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতারও পরীক্ষা।

বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সামনে প্রশ্ন গণতন্ত্র শুধু নির্বাচন আয়োজনের নাম নয়।একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রের জন্য প্রয়োজন:স্বাধীন বিচারব্যবস্থা,রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সুযোগ,মতপ্রকাশের স্বাধীনতা,শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান এবং গ্রহণযোগ্য নির্বাচন ব্যবস্থা

বাংলাদেশের সামনে এখন বড় প্রশ্ন হলো-রাজনৈতিক সংকট কি প্রতিষ্ঠান ও আইনের মাধ্যমে সমাধান হবে, নাকি প্রতিশোধের রাজনীতি আরও গভীর হবে?

ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের প্রভাব শেখ হাসিনার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ।

গত এক দশকে দুই দেশের সম্পর্ক নিরাপত্তা, বাণিজ্য, যোগাযোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচন-সবকিছুই দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক কোনো একক ব্যক্তির ওপর নয়; বরং জনগণের স্বার্থ, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে।

 

উপসংহার

শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা বাংলাদেশের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়।

এটি কারও কাছে রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সুযোগ, আবার কারও কাছে নতুন রাজনৈতিক সংকটের আশঙ্কা তৈরি করতে পারে।

কিন্তু সবচেয়ে বড় প্রশ্ন কোনো একজন ব্যক্তি বা দলের ভবিষ্যৎ নয়।

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো-বাংলাদেশ কি এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি তৈরি করতে পারবে, যেখানে জবাবদিহিতা থাকবে, কিন্তু ন্যায়বিচারও নিশ্চিত হবে?

যেখানে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা হবে জনগণের মতামতের ভিত্তিতে।যেখানে ক্ষমতা পরিবর্তন হবে শান্তিপূর্ণভাবে।কারণ একটি দেশের প্রকৃত শক্তি শুধু তার নেতাদের জনপ্রিয়তায় নয়; বরং তার প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা, আইনের শাসন এবং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির ওপর নির্ভর করে।

সম্পর্কিত সংবাদ

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা: শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল দর্শনেরও লড়াই
খেলাধুলা

ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা: শুধু একটি সেমিফাইনাল নয়, ফুটবল দর্শনেরও লড়াই

July 15, 2026

নূর আলম সিদ্দিকী রাসেলআইনবিদ, কলামিস্ট ও বিশ্লেষক   বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়া মানেই ইতিহাসের একটি নতুন...

আরও পড়ুন
একজন গর্বিত হাফেজ বাবার দেওয়া ,শেষ চিঠির রাজপুত্র আমি
মুক্তমত

একজন গর্বিত হাফেজ বাবার দেওয়া ,শেষ চিঠির রাজপুত্র আমি

June 21, 2026

নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল কলামিস্ট, আইনজীবি ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক .আমার বাবা মরহুম হাফেজ ডাঃ আহসান উল্ল্যাহ সিদ্দিকী ছিলেন...

আরও পড়ুন
নেইমার হীন ব্রাজিল কি অপ্রতিরোধ্য হতে পারবে? হাইতি ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা ও মাঠের রসায়ন
খেলাধুলা

নেইমার হীন ব্রাজিল কি অপ্রতিরোধ্য হতে পারবে? হাইতি ম্যাচে জয়ের সম্ভাবনা ও মাঠের রসায়ন

June 20, 2026

নূর আলম সিদ্দিকী রাসেল আইনবিদ ও ক্রীড়ানুরাগী ফুটবল বিশ্বের অন্যতম দল ব্রাজিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দলটির সবচেয়ে বড়...

আরও পড়ুন