৭ দিনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালের সব সমস্যার সমাধান: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসকদের নির্ধারিত সময়ে উপস্থিতি ও কর্মস্থলে অবস্থান নিশ্চিত করতে সাত কর্মদিবসের সময় বেঁধে দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ওসমানী হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, চিকিৎসকদের সময়মতো আসা-যাওয়ার বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে এ ক্ষেত্রে সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিত করা হবে।
সম্প্রতি হাসপাতালের চিকিৎসকদের বায়োমেট্রিক উপস্থিতির তথ্য নিয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কর্তৃপক্ষ। সেখানে দেখা যায়, সকাল ৯টার পর বহির্বিভাগের ৪৮ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৬৫ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থলে উপস্থিত হন। অন্যদিকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের নির্ধারিত সময়ের আগেই বহির্বিভাগের ৯৬ শতাংশ এবং অন্তর্বিভাগের ৯০ শতাংশ চিকিৎসক কর্মস্থল ত্যাগ করেন।
এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সময়মতো ডাক্তারদের আসা-যাওয়ায় সময়ানুবর্তিতা আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এসব হাসপাতালে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি পেয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তার ভাষায়, ‘আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর ২৫টির উপরে হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি। সব জায়গায় চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি ছিল। রোগীরাও বলছেন, এখন চিকিৎসার মান ও পরিবেশ উন্নত হয়েছে। খাবারের মানও ভালো হয়েছে।’
ওসমানী হাসপাতালের পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এখানে কোনো সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে এ প্রসঙ্গে তিনি এক পর্যায়ে ছয় মাসের মধ্যে সমস্যা সমাধানের কথা বললেও পরে চিকিৎসকদের সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিতের জন্য সাত কর্মদিবসের সময়সীমার কথা জানান।
মাসের শেষে হামের বিশেষ টিকা
চলতি মাসের শেষেই দেশব্যাপী হামের বিশেষ টিকা ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সরকারের উদ্যোগে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন আনা হয়েছে। ইতোমধ্যে রাঙামাটি ও বান্দরবান ছাড়া দেশের সব জেলায় হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তন এসেছে। গত ছয় মাসে দেশের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবার মান বেড়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ছাড়া সিলেটে নির্মাণাধীন ও অনুমোদিত সরকারি হাসপাতালগুলোও দ্রুত চালুর আশ্বাস দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এর আগে সকালে ওসমানী হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।




